ঢাকা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অতীতে কয়েকজন বিচারপতির বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতিতে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: আইনমন্ত্রী

অতীতে কয়েকজন বিচারপতির বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতিতে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: আইনমন্ত্রী
×

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৬

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন তা সংশোধনের কাজ করছে। এ কাজে কিছুটা সময় লাগবে।

রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের স্থানীয় সমস্যাগুলো শোনা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাতক্ষীরায় সৃষ্ট নতুন ২৩টি আদালতে দ্রুত বিচারক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিশোধের রাজনীতি ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও প্রধানমন্ত্রীর এ নীতি অনুসরণ করতে হবে।

বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন, ফ্রিডম অব স্পিচ, ফ্রিডম অব কনসায়েন্স’—বিবেক ও কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সাইবার আইন-২০২৬ যথেষ্ট নয়—এমন মতামতের পর আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানো হলেও মানুষের বাকস্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তা একটি উপকমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো পরামর্শ থাকলে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে তা আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির কোনো নেতা এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

নিজ এলাকার একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা এলাকায় অশান্তি তৈরি করছিলেন। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এ কারণে শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলায় মাদকের প্রকোপ রয়েছে। এ জন্য যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকসংক্রান্ত মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সামারি ট্রায়ালের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা জজ মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভায় যোগ দেন তিনি।

সভায় জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান ও সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রউফসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×