ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি
ভুরুঙ্গামারীর সীমান্তে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ছবি: সমকাল
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩৪ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৪৪
ভারতে দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন এক নারীসহ তিন বাংলাদেশি। শুক্রবার শেষ বিকেলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভুরুঙ্গামারীর সীমান্তে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
ফেরত আসা তিনজন হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার শোভারকুটি গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল (২৯), হাফেজ উদ্দিনের ছেলে মোজাফফর হোসেন (২২) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকার নুর আহমেদের মেয়ে শারমীন বেগম (২৫)।
শুক্রবার শেষ বিকেলে ভুরুঙ্গামারী সীমান্তে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে তাদের ভুরুঙ্গামারী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় আসাম পুলিশ তাদের আটক করে। এরপর আব্দুল জলিল ও মোজাফফর হোসেন ৩৩ মাস এবং শারমীন বেগম ২৮ মাস ভারতীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেন। পরে তারা মুক্তি পেলে নিয়মিত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার শেষ বিকেলে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে আসামের লক্ষীমারী ক্যাম্পের বিএসএফ।
আব্দুল জলিল ও মোজাফফর হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে এক শীতের সন্ধ্যায় তারা এলাকার বালাবাড়ী সীমান্তঘেঁষা নদীতে মাছ ধরতে যান। ঘন কুয়াশার কারণে অবস্থান বুঝতে না পেরে ১২৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে তারা ভুলবশত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন। এ সময় আসামের গোলকগঞ্জ থানার বালাবাড়ী গ্রামের চেতক ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ তাদের আটক করে। পরে তাদের ভারতীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে ধুবরী কারাগারে পাঠানো হয়।
সেখানে ২৮ মাস সাজা ভোগ এবং গোলকগঞ্জ ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঁচ মাস থাকার পর তাদের মুক্তি মেলে।
ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফরিদুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার শেষ বিকেলে বিএসএফ ওই তিন বাংলাদেশিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করলে তারা ভুরুঙ্গামারী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।