রান্নাঘরে মজুত ককটেল বিস্ফোরণে আহত সেই গৃহবধূর মৃত্যু
ককটেল বিস্ফোরণে উড়ে যায় রান্নাঘরের টিনের চাল
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১২
শরীয়তপুরের জাজিরায় রান্নাঘরে মজুত করে রাখা ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত রোকেয়া বেগম (৪০) মারা গেছেন। ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার বনশ্রী এলাকার ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডে তার মৃত্যু হয়।
রোকেয়া বেগম জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকার ফারুক ছৈয়ালের স্ত্রী।
গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফারুক ছৈয়ালের বাড়ির রান্নাঘরে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রান্নার জন্য রোকেয়া বেগম রান্নাঘরে ঢোকার পর সেখানে রাখা ককটেলগুলো একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে পাশের বাঁশঝাড়ে পড়ে। এতে আশপাশের আরও দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পরপরই রোকেয়াকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডে তার চিকিৎসা চলছিল।
ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। গত ১০ আগস্ট চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকার পার্শ্ববর্তী মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মান্নান সরদার (৭০) নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ সমকালকে বলেন, হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগম ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র থানায় পৌঁছায়নি।
ওসি বলেন, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। ককটেল মজুতের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- শরীয়তপুর
- ককটেল বিস্ফোরণ
- গৃহবধূর মৃত্যু