জঙ্গলে যেভাবে পাওয়া গেল অপ্রতিমের মরদেহ, তদন্তে পুলিশ
অপ্রতীম
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:২২ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৩৮
‘কাকা, এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে’—ভাতিজার কথায় জঙ্গলের ভেতর গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদির জিলানী। পরে জানা যায়, শিশুটি কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম।
শনিবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন পশ্চিম সানন্দার একটি টিলা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল সে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদির জিলানী জানান, তারা ওই এলাকায় কাজে গিয়েছিলেন। কাজের প্রয়োজনে বাঁশ সংগ্রহ করতে জঙ্গলের দিকে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা ভাতিজা তাকে বলে, ‘কাকা, এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে।’
কাদির জিলানী বলেন, এরপর সেখানে গিয়ে তারা শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ভয় পেয়ে তারা কাজ ফেলে সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর জানতে পারেন, এক ম্যাডামের সন্তান নিখোঁজ হয়েছে। তখন তারা জঙ্গলের ভেতর একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখার বিষয়টি জানান।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। বেলা ১১টার দিকে সেখানে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান কাদির জিলানী।
এর আগে শনিবার ভোরে অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থানের তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন পশ্চিম সানন্দার একটি টিলায় অপ্রতীমের মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপ্রতীমের মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে সে ওই স্থানে পৌঁছাল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তারা কিছু সূত্র পেয়েছেন এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
- বিষয় :
- কুমিল্লা
- মরদেহ উদ্ধার