ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতে লাখ টাকা দাবি করে বাবাকে ফোন, সকালে মিললো ছেলের লাশ

রাতে লাখ টাকা দাবি করে বাবাকে ফোন, সকালে মিললো ছেলের লাশ
×

আজমল হোসেন

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৪ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৪

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হল রোডের পাশে আজমল হোসেন (২২) নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে দেড়টায় চুরির অপবাদ দিয়ে ওই ছাত্রকে বেদম মারপিট করে করে খুবির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী। মারধরের এক পর্যায়ে আজমল ভবনের পাঁচ তলার ছাদ থেকে পড়ে যান। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। আজমল স্বেচ্ছায় ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন, নাকি মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত আজমল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সে ওই ভবনের মেসেই ভাড়া থাকতো। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।

শনিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা থেকে আজমলের বাবা কুতুব উদ্দিন খুলনায় ছুটে আসেন। তিনি বলেন, ‘রাত ১টার দিকে কয়েকজন ছেলে ফোন করে বলে আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে, এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে। আমি বলি, আমি যতো দ্রæত পারি খুলনায় আসছি, এসে তোমাদের সঙ্গে কথা বলছি। রাতেই বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে ট্রেনে সকাল ৬টায় ওর মেসে পৌঁছায় দেখি কেউ নেই। তখন এলাকার এক মুরুব্বী জানায়, আপনার ছেলেকে ওই রুমের লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্র হলের পাশেই আবাসিক এলাকা। হলে যারা আসন পান না, তাদের বেশিরভাগই ওই এলাকায় ভাড়া থাকেন। খুবির খানজাহান আলী হল গেটের বিপরীতে আকিবের পাঁচতলা ভবন মেস হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন। আজমল ওই ভবনের চতুর্থ তলায় খুবির সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে থাকতেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাত ১টার দিকে আকিবের ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা বাইরে আসেন। এ সময় ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে মারধর করতে দেখেন এবং তার চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল এবং পা ভেঙে গিয়েছে। কয়েক জন ছাত্র তাকে হাসপাতালে দিয়ে দ্রæত চলে যান। ভর্তির ১৫/২০ মিনিটের মধ্যেই তিনি মারা যান।

খবর পেয়ে নগরীর হরিণটানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গত রাতেই আমরা শুনেছি আকিবের পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় চুরির অভিযোগে ঝামেলা হয়েছে। সকালে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, আজমলকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে মারপিট করে। পরে সে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে অসুস্থ হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।’ 

তিনি বলেন, ‘নিহতের পরিবার মামলা করতে রাজি হচ্ছেন না। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমরা অধিকতর তদন্ত করছি।’

নিহত আজমলের বাবা কুতুব উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলের লাশ দেখেছি। অতিরিক্ত মারধর করেই তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি কোর্ট-কাচারি করতে চাই না। কারও প্রতি আমার অভিযোগ নেই। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। ছেলের লাশটা দিলে আমি বাড়ি চলে যাব।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কিছু করার নেই। তবে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের সহায়তা করছি।’

আরও পড়ুন

×