ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জে একই ঘর থেকে শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জে একই ঘর থেকে শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
×

নিহতের পরিবারের আহাজারি। ছবি: সমকাল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০০

মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় একই ঘর থেকে সৌদি আরবপ্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার প্রিয়াঙ্কা (২৫) ও তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা নূরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহীরচর জান্নাকান্দি এলাকায় একরামের বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করার পর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শুক্রবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান একরাম। শনিবার বেলা বাড়লেও ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের টিনের বেড়ার একটি অংশ ফাঁক করে পরিবারের সদস্যরা একরামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তখন ঘরের ভেতর তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, একরাম সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাতেন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। দেশে ফেরার পর তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। তবে তাদের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল এবং কোনো অর্থনৈতিক সংকট ছিল না বলে জানান তিনি।

এদিকে প্রিয়াঙ্কার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান অভিযোগ করেন, তার মেয়ের সঙ্গে একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। তার দাবি, একরামের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

প্রিয়াঙ্কার ভাই ইয়াসিন বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার ভগ্নিপতি, বোন ও ভাগনিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নিহত একরামের ভাই ওয়াসিম বলেন, তারা চার ভাই। তাদের মধ্যে তিনজন বিদেশে থাকেন। দুই মাস আগে একরাম দেশে ফেরেন। অধিকাংশ সময় তিনি ঘরেই থাকতেন। কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা ছিল বলে তিনি জানেন না। শুক্রবার রাতে একরামের ঘরে খাবার দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকালে তিনি বাহারিচর বাজারে ফার্মেসিতে যান। পরে দুপুরে বাড়িতে দুর্ঘটনার খবর পান।

প্রিয়াঙ্কার মা আফরোজা ও বোন মিশু আক্তার অভিযোগ করেন, একরামের অত্যাচারের কারণে তার আগের স্ত্রী চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, একরামের পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে প্রিয়াঙ্কাকে হত্যা করেছেন।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একটি হত্যা মামলা এবং অন্যটি আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা আরও স্পষ্ট হবে।

প্রিয়াঙ্কার লাশ নিতে বাধা পরিবারের
মরদেহ উদ্ধারের পর প্রিয়াঙ্কার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার সময় তার বাবা মহসিন খান ও চাচা মোশারফ হোসেন বাধা দেন। তাদের দাবি, একরামের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত লাশ নিতে দেওয়া হবে না বলেও তারা দাবি করেন। পরে পুলিশ তাদের শান্ত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

×