পরিচালক ইকবালের রেস্টুরেন্ট নিয়ে অপপ্রচার ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক ইকবাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৮ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৬
শরীয়তপুরের জাজিরায় রেস্তোরাঁ ব্যাবসা করতে গিয়ে স্থানীয় একটি মহলের চাপ ও চাঁদা দাবির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক ইকবাল হোসেন।
জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের পদ্মাসেতু সংলগ্ন তস্তারকান্দি এলাকায় তার মালিকানাধীন ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টের বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, ব্যাবসার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শরীয়তপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির কাছে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করে টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের সময় অন্য একটি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ফিডারে পর্যাপ্ত লোড না থাকায় ব্যাবসার প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নতুন সংযোগের জন্য পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিতে আবেদন করা হয়। আবেদনের পর বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন ফিডারে পর্যাপ্ত লোড রয়েছে, নতুন লাইন নির্মাণে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোন পথে লাইন নেওয়া সম্ভব এসব বিষয় পর্যালোচনা করেন। এরপর টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নতুন লাইন নির্মাণের ব্যয়ও গ্রাহক হিসেবে তিনি নিজেই বহন করেছেন বলে জানা যায়।

এ বিষয় পরিচালক ও প্রযোজক ইকবাল হোসেন বলেন, রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য নিয়ম মেনেই পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা কারিগরি বিষয়গুলো যাচাই করে টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন লাইন নির্মাণের খরচও আমি নিজেই বহন করেছি। এ ছাড়া যে জায়গা দিয়ে লাইন নেওয়া হয়েছে, সেই জমি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও রেস্টুরেন্ট ব্যাবসার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময় তার কাছে অর্থ দাবি করেছেন। ওই দাবি পূরণ না করায় এখন বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের চাপ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ইকবাল বলেন, আমি নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো সংযোগ নেইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি, তারা কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি এ নিয়ে অপপ্রচার করা হয়, তার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিই প্রশ্ন। বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নথি, অনুমোদন ও কারিগরি যাচাইয়ের বিষয়গুলো পরীক্ষা করলেই প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব। আমি এবং আমার বিরুদ্ধে করা এসব অপপ্রচারের বিষয় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
শরীয়তপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান বলেন, গ্রাহকের অর্থায়নে লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় ওই ফিডার থেকে রেস্টুরেন্টে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আশপাশে অন্য কেউ সংযোগ নিতে চাইলে কারিগরি বিষয় বিবেচনা করে সংযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলে দেওয়া হবে। আমরাও চাই, পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকুক।
- বিষয় :
- শরীয়তপুর