অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়: পুলিশ
ছবি-সংগৃহীত
কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:১৩ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:১৯
১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় অপ্রতিম। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুর আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে।

পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে সাইফুল ইসলাম তুহিন লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ এলাকায় যায়।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়ার পর তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন ফাহাদ ও কামরুল নামে আরও দুই বন্ধুর জড়িত থাকার কথা জানায়। পরে পুলিশ তাদেরও হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হলে তুহিন মোবাইল ফোনটি নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তিনি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা। কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ঝরে পড়েছেন তিনি। ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। তিনি একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কামরুল হাসানের বয়স ১৮ বছর। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে। সিয়ামের বয়স ১৯ বছর এবং তাঁর বাড়ি একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামে।
পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পিসিআর পাওয়া যায়নি। তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাই শেষে তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
- বিষয় :
- স্কুলছাত্র
- নিহত
- পুলিশ
- শিক্ষার্থী
- কুমিল্লা
- সংবাদ সম্মেলন