ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইও সেজে মামলার বাদীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে মুহুরি

আইও সেজে মামলার বাদীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে মুহুরি
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সেজে কয়েকজন বাদীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারীকে (মুহুরি) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত শুক্রবার নোয়াখালী থেকে মোজাম্মেল হক নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার তাঁকে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মোজাম্মেল হক ওরফে কবির নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দুই মাস ধরে চট্টগ্রাম আদালতে মুহুরি হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। পিবিআই সূত্র জানায়, দুই বছর ধরে একটি প্রতারক চক্র মোবাইল ফোনে পিবিআই, সিআইডি, ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করে আসছিল। এ বিষয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় প্রতারণার একটি মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার নোয়াখালী থেকে মোজাম্মেলকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ডিভাইসসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার এ জে এম ওমর ফারুক বলেন, কয়েকটি সিআর মামলার তদন্তের সময় পিবিআই কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তদন্ত কর্মকর্তা সেজে একটি প্রতারক চক্র বাদীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিষয়টি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে প্রতারক চক্রের হোতা মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পুলিশ সেজে বাদীদের টার্গেট করে অপকর্ম করে আসছিলেন। এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবগুলো ঘটনাই দুই-তিন মাসের মধ্যে ঘটিয়েছেন মোজাম্মেলন। প্রতারণার দায়ে ইউনিলিভার থেকেও তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন সমকালকে বলেন, আদালত থেকে সিআর মামলা দায়েরের পর তা তদন্তের জন্য পিবিআই কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেই মামলার বাদীদের নম্বর সংগ্রহ করতেন কোর্টে মুহুরি হিসেবে কাজ করা মোজাম্মেল হক। তারপর তিনি কখনও পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা, কখনও সিআইডি, ডিবি কর্মকর্তা সেজে মামলার বাদীদের ফোন নম্বরে কল করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×