সড়ক-মহাসড়কে যত্রতত্র পশুর হাট ও কাঁচাবাজার
গরুর হাটের কারণে চলাচলের উপায় নেই। বৃহস্পতিবার ডুমুরিয়ার দৌলতপুর-শাহাপুর সড়কে সমকাল
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ও দৌলতপুর-শাহাপুর সড়কে নিয়মিত বসছে সাপ্তাহিক পশুর হাট। এ ছাড়া সড়কের মোড়ে মোড়ে বসছে মাছ ও সবজির বাজার। এতে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের বাড়ছে ঝুঁকি। এ বিষয়ে প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা পালনের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার অভ্যন্তরে ৮৩ কিলোমিটার অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কৈয়া ব্রিজ হতে আঠারমাইল পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার, নগরীর দৌলতপুর-শাহাপুর ৪৫ কিলোমিটার এবং ডুমুরিয়া থেকে খর্নিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। এসব সড়কের খর্নিয়া ও আঠারোমাইলে নিয়মিত সাপ্তাহিক গরু-ছাগলের হাট বসছে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশ ঘেঁষে প্রতিনিয়ত কাঁচাবাজার বসানোসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন এক শ্রেণির মানুষ।
ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের সামনে হাসপাতাল মোড় থেকে উপজেলার ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের দুপাশজুড়ে কোথাও খালি জায়গা নেই। মহাসড়কেই বাঁশ, ইট, বালু, খোয়া বিক্রিসহ ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। ওই এলাকায় দুটি ডিগ্রি কলেজ ও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সড়কগুলোর আশপাশের এলাকা অবিলম্বে দখলমুক্ত হওয়া দরকার।
উপজেলার খর্নিয়ার মাছ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, খর্নিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে, স্কুলের মাঠে, স্থানীয় ভূমি অফিসের জায়গায় ও উপজেলার শাহাপুর, আঠারোমাইল এলাকায় সড়কের ওপর নিয়মিত গরু-ছাগলের হাট বসেছে। এসব সড়কে যানবাহন চালক, যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। এগুলো অপসারণ দরকার। চুকনগরের স্কুলশিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, খর্নিয়া থেকে আঠারোমাইল পর্যন্ত মহাসড়কের দুপাশ ঘেঁষে সব জায়গা প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি খর্নিয়া ও চুকনগর বাজারের দুটি যাত্রী ছাউনিতেও খাবারের দোকান বসানো হয়েছে।
সড়কে পশুর হাট বসানোর বিষয়টি স্বীকার করে খর্নিয়া গরুর হাট কমিটির সদস্য রেজোয়ান হোসেন বলেন, ‘সড়কে গরুর হাট বসানো আমাদের কোনো অনুমতি নেই, এটা সত্য। বাজার উন্নয়নের স্বার্থে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে সড়কে গরুর হাট বসানো হয়েছে। তবে দ্রুতই পশুর হাট সরিয়ে নেওয়া হবে।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. দারুল হুদা বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সড়কগুলো থেকে অবৈধ হাটবাজার দখল উচ্ছেদ করা হবে। খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, শিগগিরই অবৈধ স্থাপনাসহ সড়কের ওপর গরু-ছাগলের হাট অপসারণে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
- বিষয় :
- হাট-বাজার