ঢাকা-বাগেরহাটে থেকেও তারা আসামির তালিকায়
খুলনা ব্যুরো ও ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ডা. দ্বীন মোহাম্মদ খোকা বাগেরহাট জেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক। ইউনিসেফের স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালায় আলোচক হিসেবে অংশ নেন ১৮ সেপ্টেম্বর। একই দিনের ঘটনা উল্লেখ করে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি গ্রামে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও শপথের অভিযোগে করা বিএনপি নেতার মামলা আসামি করা হয়েছে তাঁকে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রব আকুঞ্জি ডুমুরিয়া থানায় এই মামলা করেন। সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় আসামি করা হয় ৪৭ জনকে। তাদের কেউ সাংবাদিক, কেউ আবার স্কুল-কলেজের শিক্ষক।
এজাহারে রব আকুঞ্জি উল্লেখ করেন, ‘গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোমরাইল গ্রামের হারুন অর রশিদের বাগানবাড়ীর মধ্যে নির্মাণাধীন গোয়ালঘরের ভেতর যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে সমবেত হয়। তারা বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করে। তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে।’
আসামি তালিকায় ডা. দ্বীন মোহাম্মদ খোকা ছাড়াও রয়েছেন– ডুমুরিয়া ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ বিষ্ণু প্রসাদ মল্লিক, সৈয়দ ঈসা অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক জি এম ফারুক হোসেন, পল্লী শ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সুভাস সরদার, চুকনগর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ বি এম শফিকুল ইসলাম, বানিয়াখালী মওলানা ভাসানী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক কে এম হযরত আলী, ডুমুরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক ৬ বারের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর আলমও। তারা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কয়েকজন ছিলেন পদেও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আটলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রতাপ কুমার রায়, রুদাঘরার চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকনসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বড় অংশ সেখানে নেই। তাদের অনেকেই ঢাকায় বসবাস করেন। অথচ মামলায় তাদেরও আসামি করা হয়েছে।
সম্প্রতি কোমরাইল গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে, কেউই সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে চাননি। যে বাগানবাড়িতে বৈঠকের কথা এজাহারে বলা হয়েছে, সেখানেও প্রবেশ করা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। কয়েকজনের কাছ থেকে জোর করে টাকাও আদায় করা হয়েছে। নিজের নামে কেউই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা দেখা দিলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার এজাহার থেকে ২৯ জনের নাম বাদ দিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা দেন বিএনপি নেতা আবদুর রব আকুঞ্জি। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মামলায় আসামিদের নাম ছাড়াও কিছু নিরীহ, ভদ্র ও নির্দোষ ব্যক্তির নাম সংযোজন করা হয়েছে। এই আসামিদের নাম আমি বলিনি বা লিখিনি।’
এ বিষয়ে বাদী আবদুর রব আকুঞ্জি বলেন, ‘আমি ১০-১২ জনের নাম লিখে এজাহার দিয়েছি। কীভাবে ৪৭ জনের নাম আসল জানি না। যারা এসব আকামের সঙ্গে জড়িত না, তাদের নাম বাদ দিতে বলেছি।’ তবে ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখন আর আগের দিন নেই। মামলার প্রতি পাতায় বাদীর স্বাক্ষর করা লাগে। বাদী কেন এসব কথা বলছেন, তিনিই ভালো জানেন। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- মামলা