ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পাবনায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

পাবনায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
×
×

ছবি: সমকাল

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:৪৮

পাবনার বেড়া পৌর এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় অন্তত ১৫টি বাড়ি ও দোকানে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়া পৌর এলাকার সরকারি বেড়া বিবি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কয়েক দিন ধরে পৌরসভার ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। গতকাল রোববার ছিল ২ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে খেলা। নির্ধারিত সময়ে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় থাকায় খেলার ফল নির্ধারণে টাইব্রেকার অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে দুই ওয়ার্ডের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে হাতাহাতি শুরু হয়। 

একপর্যায়ে এ বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরপাড়া ও বনগ্রামের খাঁপাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে। পরে মৈত্রবাঁধা, সান্দিয়ালপাড়া ও বনগ্রাম মহল্লার লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়েন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুই পক্ষের লোকজন ও হাসপাতাল সূত্রে আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা অর্ধশতাধিক বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রথমে বেড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা এবং পাবনা পুলিশ লাইনসের পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত ১১টার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় কোনো আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এলাকায় যাতে নতুন করে সংঘর্ষ না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×