প্রশাসনের নির্দেশনার এক দিন আগেই সাজেক ছাড়লেন পর্যটকেরা
ছবি: সমকাল
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩৬
রাঙামাল জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছেড়েছেন সেখানে অবস্থানরত পর্যটকেরা। সোমবার দুই দফায় মোট ১ হাজার ১৪১ জন পর্যটক সাজেক ছেড়ে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন। এর মধ্য দিয়ে সাজেক পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।
তবে প্রশাসনের সাময়িকভাবে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গত রোববার সন্ধ্যা থেকে পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। একই সঙ্গে ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
এর আগে রোববার থেকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়। অবরোধ চলাকালে উজোবাজার এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিলে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েন। পরে অবরোধকারীদের তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেয় প্রশাসন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য সড়ক অবরোধ স্থগিত করা হয়।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে সাজেকের বিভিন্ন কটেজ ও রিসোর্টে অবস্থানরত ৮৫৮ জন পর্যটক এলাকা ছাড়েন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আরও ২৮৩ জন পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনার এক দিন আগেই সোমবার দুই দফায় সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটক এলাকা ছেড়েছেন। নতুন করে কোনো পর্যটককে সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক নেই।
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটির সময়ে সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোর সব কক্ষ আগাম বুকিং দেওয়া ছিল। কিন্তু পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় কটেজ ও রিসোর্টের মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সাজেক পর্যটনকেন্দ্র আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।