অপরাধ প্রতিরোধে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি- সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০২ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০২
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজিটাল দুনিয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ, প্রতারণা এমন কি স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে সরকার দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।’
বুধবার দুপুরে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় এই মুহূর্তে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ এর মতো কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রথম থেকেই পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরিকল্পনা করে আসছিল। গত পহেলা অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ উদ্বোধন করা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক অ্যানালাইসিস ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল অ্যানালাইসিসের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরি ফ্যাসিলিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এবিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং কোরিয়া সরকারের কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সিআইডি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে। ভিসেরা রিপোর্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে এসব ল্যাবরেটরির সম্প্রসারণও জরুরি হয়ে পড়েছে। বিচারিক কার্যক্রমে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ সার্টিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে সরকার প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা, লজিস্টিকস ও আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সুসজ্জিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, তবে তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না। সকল বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সহযোগিতা করেছে। এজন্য তিনি কোরিয়ান সরকার, কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধিসহ কোরিয়া থেকে আগত সংশ্লিষ্ট টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির, অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনেসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
- বিষয় :
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পুলিশ
- সাইবার পুলিশ ইউনিট