ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নড়বড়ে সেতুতে গর্ত, ভেঙে গেছে সংযোগ সড়ক

নড়বড়ে সেতুতে গর্ত, ভেঙে গেছে সংযোগ সড়ক
×
×

চিলমারী উপজেলার বালাবাড়িহাট গ্রামে তিস্তা খালের ওপর জরাজীর্ণ সেতু। ছবি: সমকাল

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৫৭

ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও জীবনের তাগিদে প্রতিদিন এক নড়বড়ে সেতু পার হতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে। ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত চার দশকের পুরোনো সেতুটির সংযোগস্থল ভেঙে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত, ওপরে নেই সুরক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা। নিচে উত্তাল তিস্তা খাল আর ওপরে প্রতিদিনের এই মরণফাঁদ পেরিয়ে চিলমারী ও পার্শ্ববর্তী উলিপুর উপজেলার সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিন পৌঁছাতে হয় সদর, স্থানীয় হাটবাজার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বালাবাড়িহাট থেকে সাদুল্লাগামী সড়কের তিস্তা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির বর্তমান চিত্র এটি। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর সাত বছর কেটে গেলেও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ। উল্টো দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে শতগুণ।

এই পথ দিয়ে সিঙের ভিটা, নালারপাড়, হাজিপাড়া, চাচিয়ারপাড়, উত্তর সাদুল্যা, দক্ষিণ সাদুল্যা, উমানন্দসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের পিচ ও মাটি উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, ধসে গেছে কিনারা। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্ক লেগে থাকে। যাত্রীবাহী অটোরিকশা, ভ্যান ও হালকা যানবাহনগুলো হেলেদুলে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে সেতু পার হচ্ছে।

কথা হয় স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক বকুল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাঙা গর্তে চাকা পড়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। বিশেষ করে রাতে কিংবা বৃষ্টিতে ভাঙা অংশে বোঝাই গাড়ি নিয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন। পেটের দায়ে জীবন বাজি রেখে প্রতিদিন এ রাস্তা পার হতে হচ্ছে। অনেক দিন ধরে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। কাজ হচ্ছে না।’

প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া স্থানীয় শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আক্ষেপ করে বলে, ‘সেতু পার হওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। দীর্ঘদিন ধরে শুনছি এখানে নতুন সেতু হবে। এতদিনেও বাস্তবে কোনো কাজ হতে দেখছি না।’

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা গোলাম মাহবুব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাতটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই পথটি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রশ্ন হলো, আমাদের কষ্টের প্রতিকার পেতে কি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো প্রাণহানির অপেক্ষা করতে হবে?’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য এর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর থেকে সরেজমিনে পরিমাপ করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রশাসনিক আপত্তির কারণে সে উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যায়। এই টানাটানির মাশুল গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক অবহেলা ও আইনি জটিলতার স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে নতুন সেতু নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

সাদুল্যা এলাকার ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান জানান, সেতু ও সংযোগ সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নাজুক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরে বারবার জানানো হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সামনের বর্ষায় যাতায়াত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করায় পুরো বিষয়টি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত অবগত নন। তবে চিলমারী থেকে সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই প্রস্তাবনা ও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

আরও পড়ুন

×