মডেল মসজিদের অপেক্ষায় কেটে গেল ছয় বছর
তাহিরপুর উপজেলা সদরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ। রোববার তোলা সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সদরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা তো হয়নি, উল্টো ছয় মাস ধরে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে মসজিদটি চালু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মসজিদটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস বিল্ডার্স। ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল নির্মাণকাজ শুরুর কথা থাকলেও স্থান নির্ধারণ, পুরোনো মসজিদ অপসারণ, পুকুর ভরাট, করোনা মহামারি ও অর্থ সংকটসহ নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি। পরে ২০২০ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ১২টি এবং জেলা সদরে একটিসহ মোট ১৩টি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায় নির্মাণাধীন ভবনের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি; শুধু এক প্রবীণ ব্যক্তি পাহারা দিচ্ছেন। ছয় বছর ধরে মুসল্লিরা টিনশেডের একটি অস্থায়ী ঘরে নামাজ আদায় করছেন।
স্থানীয় মুসল্লি ও বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি সুন্দর পরিবেশে নামাজ পড়ার আশায় ছিলেন। ধীরগতির কারণে গত বছর তারা মানববন্ধনও করেছিলেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, গত ছয় মাস ধরে আবার কাজ বন্ধ।
আরেক মুসল্লি শওকত হাসান সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় যুবক তানিম আহমদ লিংকন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অন্যান্য উপজেলায় মসজিদ চালু হয়ে গেলেও এই মসজিদের কাজ শেষ হচ্ছে না। তারা চান নতুন কোনো ভালো ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা হোক। এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে মসজিদের কাজ আটকে আছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনগত জটিলতা বা মামলা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করে অন্য ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হবে।
তাহিরপুরের ইউএনও রিপামনি দেবী বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেই বিষয়টি আমলে নেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা দ্রুত কাজ পুনরায় শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন।
- বিষয় :
- মডেল মসজিদ