ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাস-ট্রাক সংঘর্ষ

বাড়ি ফেরা হলো না জাজিরার ৫ ব্যবসায়ীর

বাড়ি ফেরা হলো না জাজিরার ৫ ব্যবসায়ীর
×
×

জুয়েল মাদবর, সামাদ ফকির, শালাল মোল্লা, শাহিন হোসেন ও সোহাগ শিকদার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩০ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০২

বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ব্যবসার কাজে। উদ্দেশ্য ছিল পণ্য কিনে ফিরে আসা। কিন্তু তাদের সেই ফেরা আর হলো না। জীবিকার তাগিদে একসঙ্গে বের হওয়া পাঁচ ব্যবসায়ীর জীবন থেমে গেল সড়কেই। নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। 

নিহত পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন- শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর (৪০), ডুবিসায়বর মোল্লাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার (৩০), ডুবিসায়বর এলাকার ব্যবসায়ী আরব আলী ফকিরের ছেলে সামাদ ফকির (৬৫) এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী (৩০)।

মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিহত জুয়েল মাদবর কাঁচামালের ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকির ছিলেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী। শাহিন বেপারী হলুদ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শালাল মোল্লা ও সোহাগ শিকদারও বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচার ব্যবসা করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহত শালাল মোল্লার বড় ভাইয়ের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, ‘ব্যবসার মালামাল কিনতে গতকাল সোমবার নাটোরে যান আমার দেবর। তার সঙ্গে ব্যবসার আরও কয়েকজন ছিলেন। আজ সকালে নাটোর থেকে এক দারোগা ফোন করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আমার দেবর মারা গেছেন। খবরটি শুনে আমরা ভেঙে পড়েছি। তার ৫ মেয়ে ২ ছেলে রেখে গেছে, ওরা এখন কেমনে চলবে।’ 

নিহত সোহাগের বাবা ইউনুস শিকদার বলেন, ‘আমার পাঁচ মেয়ে দুই ছেলে। দুই ছেলের মধ্যে সোহাগ বড়। পরিবারের সোহাগই একমাত্র উপার্জনকারী। আমি একসময় ছোটখাটো ব্যবসা করতাম। এখন কোনো কাজকর্ম করতে পারি না। ওরা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, ধনিয়াসহ সিজনাল ব্যবসা করত। গতকাল সোমবার  সন্ধ্যায় তারা একসঙ্গে পেঁয়াজ কেনার জন্য নাটোর যায়। আজ সকাল ৮টার দিকে ওই এলাকার থানার ওসি ফোনে দুর্ঘটনার খবর দেন।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনো নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। শুনেছি নিহতদের পরিবারের লোকজন মরদেহ আনতে গেছেন। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×