কুড়িগ্রামে ৯ প্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কেউ, ৭০ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১২
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হননি। জেলার সামগ্রিক ফলাফলও হতাশাজনক। এ বছর জেলায় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
শিক্ষাবোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে রৌমারী, নাগেশ্বরী, রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে ২৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। নাগেশ্বরী মডেল কলেজ থেকে ১৫ জন, রাজারহাটের সিঙ্গার ডাবরিরহাট কলেজ থেকে ১০ জন এবং সিঙ্গার ডাবরিরহাট বি.এল. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেন।
এ ছাড়া নাগেশ্বরীর কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন, ছিলাখানা মডেল কলেজ থেকে চারজন, উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন, চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দু’জন এবং রাজারহাটের পাঙ্গারাণী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। ফলাফলের তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলার সামগ্রিক ফলাফলও উদ্বেগজনক। এ বছর জেলায় ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন চার হাজার ৭৭৩ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
জেলায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার বেশি। পাঁচ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ছয় হাজার ৩৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাসের হার ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ।
এ বছর জেলায় মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হারে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ।
উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রহুল আমিন বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের তিন পরীক্ষার্থীই বিবাহিত। সংসারের চাপের কারণে তাঁরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সবাই পাস করুক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আগ্রহ না থাকলে ভালো ফল করা কঠিন।’
সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, তাঁরা সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম দেখভাল করেন। উচ্চমাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত অবগত নন।
- বিষয় :
- দিনাজপুর