ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক বিক্ষোভ

আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা 

আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা 
×
×

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

সমকাল প্রতিবেদক, আশুলিয়া থেকে

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:১২ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:৩১

ঢাকার সাভারের আশুলিয়াসহ আশপাশের অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে মালিক পক্ষ। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে। 

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। সোমবার সকাল থেকে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে নামেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। 

সোমবার সকাল থেকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারীরা যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন

কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা ভাষ্য, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, আন্দোলনে বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারীরা যোগ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন পর্যন্ত শিল্প পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তবে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে। 

তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, আগুন জ্বালানো এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার বিষয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা জেলার ফোর্সও তাদের সঙ্গে রয়েছে। যতটা সম্ভব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।

এর আগে রোববার রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।  শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া। 

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলা এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রম অসন্তোষের কারণে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। 

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা। 

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×