ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সাংবাদিক আলিফ হত্যায় দুজনের স্বীকারোক্তি

সাংবাদিক আলিফ হত্যায় দুজনের স্বীকারোক্তি
×
×

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৫

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল রোববার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তারা।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন– নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের ইমরান ইসলাম ইমন ও তেরিবাজার এলাকার সাব্বির আহম্মেদ।

গতকাল রোববার দুপুরে তাদের দুর্গাপুর চৌকি আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল। ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।

এ নিয়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম অপূর্বকে ও ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন তারা।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ইমন ও সাব্বির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় আর রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার চেয়ে স্মারকলিপি

সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে এই স্মারকলিপি দেয় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নেত্রকোনা জেলা শাখা। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুন মুন জাহান লিজা।

স্মারকলিপি দেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার, সিনিয়র সহসভাপতি ড. রবিকুল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক খসরু মিয়া দিপু এবং সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা হাওর বন্ধু ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুর উপজেলার তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করেন দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহত আলিফ ফকিরের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা পর দিন দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ গত শনিবার পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন

×