ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

প্রতিপক্ষের থাপ্পড়ে নারী নিহত, বাড়ি ভাঙচুর-লুট

প্রতিপক্ষের থাপ্পড়ে নারী নিহত, বাড়ি ভাঙচুর-লুট
×
×

নিহতের স্বজনদের আহাজারি

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের চড় থাপ্পড় ও মারধরে এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপুরে নিহত নাছিমার বড় ছেলে নাসির হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ৪-৫ জনকে।

নিহত নাছিমা বেগম (৪২) ওই এলাকার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। 

এছাড়াও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অপরদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সকালে ঘটনাস্থল থেকে আটক দু’জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন - উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার মৃত সুপাইয়ের ছেলে মিঠু হোসেন (৪৮) ও  সুদে শেখের ছেলে রিপন শেখ।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাটিকামারা মৌজায় ১০৫ নম্বর দাগে প্রায় ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে নিহত নাছিমা, তার স্বামী শহিদুল ইসলাম ও তাদের স্বজনদের। সেখানে প্রায় ৪৩ বছর ধরে বসবাস করছেন তারা। সম্প্রতি ওই জমি নিজেদের দাবি করেন একই এলাকার মৃত জনির উদ্দিনের তিন ছেলে মোমিন শেখ (৫৫), মামুন হোসেন (৫০) ও সেলিম হোসেন (৬০)। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। তবুও প্রতিপক্ষের মোমিন, তার স্বজনরা লোকজন নিয়ে সোমবার ভোর ৫টার দিকে নাছিমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে এবং জমি দখল করতে একটি ঘর বানানো শুরু করেন। এসময় বাঁধা দিলে আসামিরা নাছিমাকে চড় থাপ্পড় ও মারধর করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত নাছিমা বেগমের মা আলেয়া খাতুন বলেন, ‘আমি জানের বদলে জান চাই। যেম্বা আমার মেয়েরে মারেছে, সেম্বা বিচার চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সকালে মোমিনরা অনেক লোকজন নিয়ে আসে ভাঙচুর শুরু করে। বেড়া ভাঙে ঘর তোলা শুরু করে। আমার মেয়ে বাঁধা দিলে ধাক্কা মারে, চড় থাপ্পড় মারে মেরে ফেলেছে।’

নাছিমার স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতে মিঠু ফোন দিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে ঘরেবাড়ি ভাঙচুর করে দখলের ঘোষণা দিছিল। সকালে তাই করেছে। জমি দখল করতে এসে আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। আমি আসামিদের ফাঁসি চাই।’

মামলার বাদী নাসির হোসেন বলেন, ‘এখানে মোমিনদের কোনো জমি নেই। তবুও ভুয়া কাগজ এনে জমির দাবি করে। আদালতে মামলাও চলছে। এরইমধ্যে সোমবার ভোরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি সঠিক বিচারের আশায় মামলা করেছি।’

এদিকে অভিযুক্ত মোমিনকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ সময় মোমিনের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, ‘সকালে আমরা জমি দখল করতে গিছিলাম। তখন বেড়া খোলার শব্দ শুনে নাছিমা স্ট্রোক করেছে। আমরা তাকে মারিনি।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাছিমা বেগমকে হত্যার অভিযোগে থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। 

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলেই প্রকৃত ঘটনা জানানো যাবে।

আরও পড়ুন

×