পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি, সন্দেহে তিনজনকে ক্যাম্পাসে নিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
ছবি- সমকাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৩
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির সময় পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তিকে ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা তিনজন হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত জাহিদ। অন্যদিকে, তল্লাশির শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম ও অর্প।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টিউশন শেষে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরতে যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় পুলিশ পরিচয়ে তিন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তল্লাশি শুরু করেন। তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি। বরং ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে দাবি করেন।
এতে সন্দেহ হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।
এদিকে, রাত থেকেই ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের মারধর করে গাড়িতে তোলার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ঘিরে রেখেছিলেন।
শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, টিউশন শেষে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে অসদাচরণও করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা অপর দুজনও নিজেদের পরিচয় স্পষ্ট করতে পারেননি।
তবে এএসআই শ্যামল সাহার দাবি, দুই শিক্ষার্থীকে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শ্যামল সাহা বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের হেনস্তা করে জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ওই তিনজনের মধ্যে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশির চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।
প্রক্টর বলেন, এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাক্বিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে গাড়িতে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা প্রয়োজন ছিল। ফলে উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল।
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যৌক্তিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ তা মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থল থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানায় যোগাযোগ করা কিংবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও বিষয়টি সমাধান করা যেত। ঘটনার পর যেভাবে বাসে করে তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
- বিষয় :
- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- পুলিশ
- শিক্ষার্থী