ডুলির মুখে তৃপ্তির হাসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৩
বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ভুটান ম্যাচটি ছিল ঘরের মাঠে থমাস ডুলির প্রথম ম্যাচ। গতকাল বৃহস্পতিবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তৃপ্তির হাসি ডুলির মুখে। ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডুলির প্রতিটি কথা ছিল আত্মবিশ্বাসী। যেভাবে খেলেছে, তাতে করে এমন জয়টি বাংলাদেশের জন্য প্রাপ্য ছিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ, ‘হ্যাঁ, অত্যন্ত খুশি। আপনি তো আর ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট ধরে প্রথমার্ধের প্রথম ৩০ মিনিটের মতো খেলতে পারবেন না; এটা সত্যিই খুব কঠিন, কারণ প্রতিপক্ষ দলেরও তো সামনে যাওয়ার এক বা দুটি সুযোগ থাকে। মোটের ওপর আমি খেলা নিয়ে অবশ্যই খুশি। আমরা ম্যাচটি জিতেছি। আমরা তিনটি পয়েন্ট পেতে চেয়েছিলাম, তাই সেটা ঠিকঠাক হয়েছে।’
এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে অনেক আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। বিরতির পর সুপার সাব মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলে জয়ের হাসি হাসে লাল-সবুজের দলটি। পুরো ম্যাচের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন ডুলি, ‘আমরা হয়তো সামান্য কম মনোযোগী ছিলাম কিংবা অতিরিক্ত দৌড়ানোর কারণে কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ফলে তাদের মনে হতে পারে যে, আমরা তো খেলতে পারছি, আমরা তো ফাঁকা জায়গা খুঁজে পাচ্ছি। আর যেমনটা আমি আগেই বলেছি, খেলোয়াড়রা যখন ক্লান্ত বোধ করে, তখন তারা একটু পিছিয়ে আসে এবং প্রতিপক্ষকে কিছুটা বেশি জায়গা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমরা জানি এবং ভুটানকে নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি যে তাদের যদি একটুও জায়গা দেওয়া হয়, তবে তারা চমৎকার খেলতে পারে।’
বাংলাদেশের মূল সমস্যা নাম্বার নাইন। ভুটানের বিপক্ষে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে নাম্বার নাইন হিসেবে খেলিয়েছেন ডুলি। মূলত রক্ষণভাগে বিশ্বনাথ মাথা গরম করেন বলেই আক্রমণভাগে তাঁকে খেলিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডুলি, ‘আমরা আগেই কথা বলেছি যে আমাদের কোনো আদর্শ নাম্বার নাইন নেই, আমাদের একজন খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্বনাথ খুব আক্রমণাত্মক একজন খেলোয়াড়। ইতালি ও সান মারিনো যাওয়ার সময় থেকেই আমি তাকে বলেছিলাম যে তাকে তার স্বাভাবিক পজিশন অর্থাৎ সেন্ট্রাল ব্যাক বা সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলানো আমার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সে এত তীব্রতা ও কঠোরতার সঙ্গে খেলে যে হলুদ কার্ড, পেনাল্টি বা লাল কার্ড খাওয়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই আমি বলেছিলাম, তার জন্য একমাত্র পজিশন হতে পারে রাইট ব্যাক, সে সেখানেও খেলতে পারে। কিন্তু রাইট ব্যাক পজিশনে খেললেও মাঝেমধ্যে তাকে বক্সে যেতে হয়। তাই সান মারিনোতে তাকে রাইট ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলাতে হয়েছিল এবং সে দুর্দান্ত কাজ করেছে। সে আক্রমণভাগে যে শক্তি নিয়ে আসে, তাতে এমন কেউ যখন তেড়ে আসে, তখন ডিফেন্ডারদের জন্য তা সামলানো খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, কারণ সে থামে না। সে পুরো শক্তি দিয়ে লড়াই করে এবং আমি তার এই গুণটিই পছন্দ করি। একজন নাম্বার নাইন হিসেবে আপনাকে সেই জায়গায় যেতে হবে যেখানে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে, আর সে তাতে ভয় পায় না; সে ঠিকই সেখানে যায়। এজন্যই আমি খুব আশা করেছিলাম যেন সে গোল করার একটা সুযোগ পায়, কিন্তু ভাগ্যের সহায়তায় সে বল জালে জড়াতে পারেনি। তবে জানেন তো, আমি তাকে নিয়ে অত্যন্ত খুশি।’
- বিষয় :
- থমাস ডুলি
- বাংলাদেশ
- ভুটান
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ