ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে রায়হানকে ‘প্রচণ্ড মারধরের’ চিহ্ন

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে রায়হানকে ‘প্রচণ্ড মারধরের’ চিহ্ন
×

রায়হান আহমদ

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২০ | ০৮:৫২ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২০ | ০৯:৩১

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এতে তার শরীরে 'প্রচণ্ড মারধরের' চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে সংশ্নিষ্ট চিকিৎসক জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল আখালিয়া এলাকার পঞ্চায়েতি গোরস্তান থেকে রায়হানের লাশ উত্তোলন করে। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজে পুনরায় ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকালে আবার তাকে একই স্থানে দাফন করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলামকে প্রধান করে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অতিরিক্ত আঘাতের কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। রায়হানের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এসব কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গলে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে রায়হান হত্যায় মূল অভিযুক্ত এসআই আকবরসহ অন্যদের গ্রেফতার দাবিতে সিলেটে মিছিল সমাবেশ ও মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় রায়হানের বাড়ির সামনে স্থানীয় জনতা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান জানান, হেফাজতে মৃত্যু আইনে মামলা হলে নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই রায়হানের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ কারণে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন ও পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমদ ও মেজবাহ উদ্দিনের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার লাশ উত্তোলনকালে পিবিআই'র তদন্ত কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম, ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক লোক উপস্থিত ছিলেন।

১১ অক্টোবর নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে রায়হান ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে নিহত হন বলে দাবি করা হয়। তবে নির্যাতন করে হত্যার বিষয়টি প্রকাশ পেলে তোলপাড় শুরু হয়। বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হয় ফাঁড়ির ৭ জনকে। বুধবার থেকে মামলার তদন্তে নামে পিবিআই।

রায়হান হত্যার প্রতিবাদে নগরীতে মিছিল সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বন্দরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ, মদিনা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি, নিসচা মহানগর শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

আরও পড়ুন

×