নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির মধ্যেও চলবে যাত্রীবাহী লঞ্চ
ফাইল ছবি
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২০ | ১২:৫৮ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৩:১৩
বিভিন্ন দাবি আদায়ে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। তবে নৌযান নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির মধ্যেও ঢাকা-চাঁদপুরসহ বিভিন্ন নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করবে বলে জানিয়েছে নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ।
সোমবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক লীগের চাঁদপুর নৌ অঞ্চল শাখার সভাপতি বিপ্লব সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ লাইজারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিকলীগ, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনসহ জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত সংগঠনসহ অন্যান্য সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৫ দফা দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। আর ১১ দফা দাবি জানিয়েছে আরেকটি সংগঠন।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকেই আমরা নৌযান শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছি। যে জাহাজ যেখানে আছে তা সেখানেই নোঙন করে ফেলেছে। এ ধর্মঘটে মালবাহী কোন নৌযান চলাচল করবে না। তবে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়নি। তিনি জানান, লঞ্চ চলাচল করলেও লঞ্চের শ্রমিকরাও এই আন্দোলনের আওতাভূক্ত। এ আন্দোলনে অর্জিত সুবিধা তারাও পাবে।
তিনি আরও জানান, চাঁদপুর থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে প্রায় ৩০টি লঞ্চ। ঢাকা-চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালিসহ সারাদেশেই লঞ্চ চলাচল করবে।
নৌযান শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবির প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ২৭ নভেম্বর চুক্তি এবং চলতি বছরের মার্চ মাস হতে খাদ্য ভাতা প্রদান কার্যক্রম ও ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন হওয়ার লিখিত চুক্তি কার্যকর না হওযায় শ্রমিক করোনা মহামারী চলাকালীন চরম অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। শ্রমিক সমাজ করোনা মহামারিতে জাহাজ চালিয়ে দেশের ৮০ ভাগ পন্য পরিবহন সচল রেখেছ। যেখানে বীরের মর্যাদা প্রদানের কতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস মতে, তার নির্দেশনা আড়ালে রেখে নৌ পরিবহন শ্রমিকদের খাদ্য ভাতা, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিয়োগপত্র, সার্বিস বুক ও পরিচয়পত্র প্রদান, মাস্টার/ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায় দুর্নীতি হয়রানি বন্ধ, জাহাজ সার্ভে রেজিস্ট্রেশনে দুর্নীতি বন্ধ, কোম্পানির খরচে শ্রমিকের পারাপার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে সকল প্রকার জাহাজ রাখার মুরিং বয়া, নিরাপদ স্থান নিশ্চিতকরণ, মেরিন ও শ্রম আইনে ও শিল্প বিরোধী আইন স্থগিতসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিট থেকে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতী পালন করবে।
এতে আরও উলেতখ করা হয়, ঘোষণা ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও এক বছর হতে চললেও কোন দাবিই মালিকপক্ষ এখনো কার্যকর করেনি। এমনকি করোনাকালে নৌযান শ্রমিকদের প্রণোদনা থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়েছে। নৌ ও শ্রমিক প্রতিমন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করলে শ্রমিকরা প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হতো না।
- বিষয় :
- কর্মবিরতি
- নৌযান শ্রমিক
- শ্রমিক
- যাত্রীবাহী লঞ্চ
