ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

রায়হানের মৃত্যু: অভিযুক্তদের জবানবন্দিতে নির্যাতনের কাহিনি

রায়হানের মৃত্যু: অভিযুক্তদের জবানবন্দিতে নির্যাতনের কাহিনি
×

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ১৩:০৮

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে ফাঁড়িতে দায়িত্বরত তিন কনস্টেবলের আদালতে জবানবন্দি ও রিমান্ডে নেওয়া আরেক কনস্টেবল ওইদিন রাতের ঘটনার বর্ণনা দেন।

গত ১৯ অক্টোবর সিলেটের অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ মহানগর হাকিম জিহাদুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সাইদুর রহমান, শামীম মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন। জবানবন্দিতে কনস্টেবল দেলোয়ার জানিয়েছেন, এসআই আকবর তৌহিদকে ডেকে নিয়ে তার মোবাইল দিয়ে রায়হানকে কথা বলান। রায়হান তার বাসায় কল দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে আসতে বলেন। এএসআই আশেক এলাহী ও কনস্টেবল হারুন সকালে রায়হানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হাসপাতালে নিয়ে যান।

কনস্টেবল সাইদুর তার জবানবন্দিতে বলেন, ফাঁড়ির মুন্সি কনস্টেবল আমিনুলের রুমে কনস্টেবল হারুন রায়হানের পা উঁচু করেন এবং এসআই আকবর ও কনস্টেবল টিটু মারধর করেন। ওইদিন রাতে রায়হানের চিৎকার শুনেছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, তাকে ও কনস্টেবল দেলোয়ারকে আদালতে সত্য ঘটনা বললে এসআই আকবর গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন।

আরেক কনস্টেবল শামীম মিয়া বলেন, 'ওইদিন রাত ৩টার পর কক্ষের ভেতরে কান্নার আওয়াজ শুনে আমার ঘুম ভাঙে। গিয়ে দেখি রায়হানের দুই হাত পেছনের দিকে হাতকড়া লাগানো। তিনি মেঝেতে বসে চিৎকার করছেন। কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করছেন। কনস্টেবল হারুনও রায়হানকে মারধর করেন। এসআই আকবর টিটুর হাতের লাঠি নিয়ে আবারও তাকে পেটান।'

এদিকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্ত আরেক কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার রাতে তাকে সিলেটের পুলিশ লাইন্স থেকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম। বিচারক শারমিন আক্তার নীলা তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২০ অক্টোবর একই মামলায় সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার দেখায় পিবিআই। টিটু চন্দ্র বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×