শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত
সীমান্তে বিজিবির টহল- ফাইল ছবি
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২৩:১৪ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:১৭
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের সীমান্তের ১০৯১ পিলারের কাছে পানবাড়ি এলাকায় বিএসএফের গুলিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর সকালে ভারতীয় সীমান্তের কুমারগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মেঘাদল গ্রামের বঙ্গসুরুজের ছেলে উকিল মিয়া (১৯) ও মাটিফাটা গ্রামের আজিজল মেম্বারের ছেলে খোকন মিয়া (২৪)।
এদিন সকালে বিজিবির পক্ষ থেকে জানান হয়, মেঘাদল গ্রামের বঙ্গসুরুজের ছেলে উকিল মিয়া (১৯) বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, সুমন নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তবে দিনভর সুমনের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিকেলে কর্ণঝোড়া নদীর মারেংপাড়া নামক স্থানে সুমনের বড় ভাই খোকনের লাশ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। শ্রীবরদী থানার ওসি রহুল আমিন তালুকদার জানান, খোকনের বুকে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। বুকে গুলি লেগেই খোকন মারা গেছেন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী ওই এলাকার মানুষ জীবিকা হিসেবে গরু পালন করেন। ভারতীয় সীমান্তে গরুর প্রচুর ঘাস পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশের গরু ছেড়ে দিলে সেখানে চলে যায়। এছাড়া বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশীদের জমিতে ধান পেকেছে। হাতির উপদ্রপ থেকে ধান পাহারা দোওয়ার জন্য লোকজন রাতে সেখানে অবস্থান করেন।
সোমবার ভোরে নিহত দুই যুবকসহ বেশ কয়েকজন গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ভারতীয় সীমান্তের কুমারগাতি এলাকায় অনুপ্রবেশ করে। এসময় বিএসএফ তাদের ওপর গুলি চালালে উকিল মিয়া গুলি খেয়ে দৌঁড়ে বাংলাদেশের সীমান্তের পানবাড়ি এলাকায় এসে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে দেখে উকিল মারা গেছেন। খবর পেয়ে কর্ণঝোড়া ক্যাম্পের বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় দুপুরে ১০৯৩ মেইন পিলার এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. শহিদুল হক, কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার সরোয়ার হোসেন, শ্রীবরদী থানার ওসি মো. রহুল আমিন, কর্ণঝোড়া ক্যাম্পের সুবেদার খন্দকার আব্দুল হাই। অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ২৬ বিএসএফের কমানডিং অফিসার কর্ণেল বিশাল রানেসহ দুইজন কমানডিং অফিসার ও একজন স্টাফ অফিসার ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণঝোড়া ক্যাম্পের সুবেদার খন্দকার আব্দুল হাই বলেন, দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান হয়েছে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাওয়া হয়েছে। বিএসএফ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বলে জানান সুবেদার খন্দকার আব্দুল হাই। ভবিষ্যতে বিএসএফের পক্ষ থেকে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওই বিজিবি কর্মকর্তা।
