করোনায় মারা গেলেন চমেক চিকিৎসক হাসান মুরাদ
ডা. হাসান মুরাদ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২০ | ০৮:১১
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু হলো বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরের বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. হাসান মুরাদ (৪৬)।
তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরটি-পিসিআর ল্যাবে (করোনা পরীক্ষাগার) কর্মরত ছিলেন। তিনি চমেকের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ডা. হাসান মুরাদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মওলা পাড়ার নুরু মাস্টার বাড়ির আবদুল মোনাফের ছেলে।
পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান জানান, কয়েকদিন আগে করোনা পজেটিভ হয়ে ডা. হাসান মুরাদ হাসপাতালে ভর্তি হন। একদিন পর তার স্ত্রীও করোনা পজেটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ডা. হাসান। ভর্তির পর থেকেই ডা. হাসান মুরাদের অক্সিজেনের মাত্রা খুবই কম ছিল। হাইফ্লো নজল ক্যানোলা দিয়ে তার অক্সিজেন মাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত ছিল। আইসিইউতে প্রতিদিন তাকে ১২ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া হত।
তিনি জানান, রোববার দুপুরের পর থেকে তার অক্সিজেনের মাত্রা আরও কমে গেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তিনি মারা যান।
জিয়াউর রহমান বলেন, ডা. হাসান মুরাদের আর কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকার বিষয়টি আমাদেরকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে অন্য কোনো রোগ না থাকলেও তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল। মূলত এ কারণেই করোনা আক্রান্তের পর তার অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।
করোনা মোকাবেলায় গঠিত স্বাচিপের বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান জানান, আরটি-পিসিআর ল্যাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হন ডা. হাসান মুরাদ। প্রথম দিকে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও কভিড জীবাণু একপর্যায়ে তার মস্তিষ্কের কোষে বাসা বাঁধে। এ কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চট্টগ্রামে তিনিই কভিড এনক্যাফালাটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মুত্যুবরণকারী প্রথম রোগী। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ চিকিৎসকের মৃত্যু হলো।
- বিষয় :
- করোনায় মৃত্য
- করোনায় চিকিৎসকের মৃত্যু