ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

স্কুলের সম্পত্তি বেচাকেনায় প্রধান শিক্ষক-সভাপতি

স্কুলের সম্পত্তি বেচাকেনায় প্রধান শিক্ষক-সভাপতি
×

ফাইল ছবি

কুমিল্লা সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২১ | ০৮:২৯

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নিয়মের বাইরে গিয়ে স্কুলের জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক অভিভাবক সদস্য।

জানা যায়, ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের সাত শতাংশ জমি সম্প্রতি বিক্রি করা হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নামমাত্র মূল্যে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে ওই জমি বিক্রি করেছেন। বিক্রিত জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা, কিন্তু বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার টাকায়।

মামলার বাদীর অভিযোগ, ওই প্রধান শিক্ষক নতুন এসেছেন। তিনি এমপিওভুক্ত হননি। এমপিওভুক্ত না হলে কোনো শিক্ষক স্কুলের জমি বিক্রি করতে পারেন না। তা ছাড়া স্কুলের জমি বিক্রি করতে হলে কমিটির রেজুলেশন বা জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেসব নিয়ম মানা হয়নি। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি যোগসাজশ করে জমি কেনাবেচা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'আগামী মাস থেকে আমার এমপিও চালু হবে। সব কিছু (জমি বিক্রির) কমিটির লোকেরাই করেছে। তারাই সব কিছু তৈরি করে আমাকে ডেকেছে। এরপর আমি গিয়ে স্বাক্ষর দিয়েছি। এর বেশি কিছুই জানি না। কমিটির লোকজন এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।'

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সবুর খান বলেন, 'বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজার ১৫০ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো মসজিদ নেই। কয়েকজন ইমাম বলেছেন সরাসরি স্কুলের সম্পত্তিতে মসজিদ করা যাবে না। এ জন্য কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে ওই সম্পত্তি আমার নামে ক্রয় করেছি। কেনার এক ঘণ্টা পরেই ওই সম্পত্তি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি। মসজিদের নামও দিয়েছি হাজী আমির জামে মসজিদ। এখানে আমার কোনো লাভ নেই। বরং মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের থেকে উল্টো ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে দিয়েছি।'

এদিকে, স্কুলের ওই জমি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেছেন অভিভাবক সদস্য ইউনুছ বাহাদুর। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সবুর খান, বিদ্যোৎসাহী সদস্য আনোরুল হক রিপন, এটিএম সাইফুল ইসলাম ও মোসলেহ উদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআইর কুমিল্লার এসআই আক্তার হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন।

মামলার বাদী ইউনুছ বাহাদুর সমকালকে বলেন, এভাবে জমি বিক্রি করতে হলে কমিটির রেজুলেশন বা জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগে। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনেই গত ৫ জানুয়ারি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০ লাখ টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে কেনাবেচা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এমপিওভুক্ত হননি এমন একজন শিক্ষক কীভাবে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি করেন? মামলা করার পর এখন শুনছি তারা পুরোনো তারিখ দিয়ে নতুন একটি বাইতে রেজুলেশন করছেন, নিজেদের বাঁচানোর জন্য। তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার চাই।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, ১৯৭৮ সালে পাশের হযরতপুর গ্রামের সৈয়দ আলী নামের এক ব্যক্তি মোট ২১ শতাংশ সম্পত্তি দান করেছিলেন বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য। বিদ্যালয় সংলগ্ন ওই সম্পত্তিতে বর্তমানে মাছ চাষ হয়। সেখান থেকে বিদ্যালয় প্রতি বছর টাকা পায়। সেখান থেকে সাত শতাংশ জমি বিক্রি করা হয়েছে। অন্যের দান করা জমি এভাবে বিক্রি করার এখতিয়ার ওই প্রধান শিক্ষকের নেই। স্কুলের সভাপতি হলেন ওই শিক্ষকের খালাতো বোনের স্বামী। এ ঘটনায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আলী জিন্নাহ বলেন, 'ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। এ ছাড়া বিষয়টি দেখার দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির। আর যতটুকু জেনেছি- সভাপতি সেখানে মসজিদ নির্মাণ করছেন। তবে ঘটনার সময় সভাপতি বা প্রধান শিক্ষক আমাদের কোনো কিছুই জানায়নি।'

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর এসআই আক্তার হোসেন বলেন, '২-৩ দিন হলো মামলাটির তদন্ত শুরু করেছি। এখনও বিস্তারিত জানতে পারিনি, তদন্ত চলছে। কোন উদ্দেশ্যে সম্পত্তি বিক্রি এবং ওয়াকফ করা হয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখছি। দুই পক্ষকে বলেছি- সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।'

আরও পড়ুন

×