রাঙামাটিতে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন
শান্তিচুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে সমাবেশ করে জনসংহতি সমিতি- সমকাল
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৪৬
রাঙামাটিতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে জনসংহতি সমিতির সমাবেশ থেকে ২২ বছরেও পার্বত্য চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইনুর রহমান, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কামাল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এই পার্বত্য শান্তিচুক্তি করেছে। এ সরকারই তার অধিকাংশ বাস্তবায়ন করেছে। সরকার ভূমি কমিশন আইন পাস করেছে। চুক্তির বাকি অংশগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
এর আগে রাঙামাটি কলেজ থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কার্যালয় পর্যন্ত একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। এ ছাড়া বিকেলে রাঙামাটি চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে জেলা পরিষদ ও রাঙামাটি রিজিয়নের উদ্যোগে দেশের স্ব্বনামধন্য ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে জিমনেশিয়াম চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসংহতি সমিতির নেতা শ্যামরতন চাকমার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি জুয়েল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী আশিকা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির নেতা অরুণ ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা শাখার নেতা নিকোলাই পাংখোয়া।
বক্তারা দীর্ঘ ২২ বছরেও পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান। না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।