ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছেন না চট্টগ্রামের মেয়র

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছেন না চট্টগ্রামের মেয়র
×

বক্তব্য দিচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন -সমকাল

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:০৬

চট্টগ্রাম নগরে বেড়েছে মশার উৎপাত। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। মশা নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে মেয়রের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। এর জবাবে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আর্থিক দৈন্যতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। তাই মশা নিধনে পরিচ্ছন্নতায় জোর দিচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার চার বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। নগরের আন্দরকিল্লা পুরনো নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘মশার ওষুধ খুবই ব্যয়বহুল। ব্যাপকভাবে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন সে অর্থ আমাদের নেই। এছাড়া ওষুধ ছিটানো হলে শরীরের মধ্যে বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘরে একটা কয়েল জ্বালান, একটু স্প্রে মারেন, দেখেন আপনার শরীরে কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ওষুধটা সমস্যা না। আমাদের সচেতন হতে হবে। মশার জন্ম যাতে না হয় সে জন্য পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমকে জোরদার করে মশা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে চাই। আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে এটা স্থান পেয়েছে।’

মেয়র নাছির বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সেবক আমার ঘরে গিয়েছিল। তাদেরকে মশার ওষুধ ছিটাতে দেইনি। কারণ আমার চাচাতো ভাইয়ের নবজাতক বাচ্চা আছে, তার অসুবিধা হতে পারে, তার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ওষুধ ছিটাতে দেইনি। অনেক জায়গা আছে, অনেক বাড়ি আছে, ওষুধ ছিটাতে দেয় না। এটা আপনারা যাচাই করে দেখুন।’

প্রসঙ্গত, ওষুধ ছিটানো না হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মশক নিধনের ওষুধ ও মালামাল ক্রয়ে সিটি করপোরেশন খরচ করেছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে একই খাতে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ৪১ টি ওয়ার্ডে একটি করে মশার ওষুধ ছিটানোর ফগার মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে ৫০টি নতুন ফগার মেশিন কেনা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তার চার বছর সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭৮৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম হয়েছে বলে দাবি করেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার পাশাপাশি কেন দেরি হচ্ছে সে বিষয়গুলোও তুলে ধরেন। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা চান সিটি মেয়র।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল সোহেল আহমেদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ূয়া, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম ও মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম।

আরও পড়ুন

×