কুমিল্লায় করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে আরও চার হাসপাতাল
প্রতীকী ছবি
কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ০৮:৩৫
কুমিল্লায় দিন দিন করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরও চারটি হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি বেসরকারি হাসপাতালও রয়েছে। জেলার করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি শনিবার এ কথা জানায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। চলতি মাসেই জেলায় এ মহামারিতে অর্ধশত লোকের প্রাণ গেছে। এ অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আঙিনায় স্থাপিত জেলার একমাত্র করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীদের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া, শয্যা আর আইসিইউ সংকটে এখন তারা দিশেহারা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুমিল্লা সদর (জেনারেল) হাসপাতালে ৩০ শয্যার করোনা ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হবে কিছুদিনের মধ্যে। এ ছাড়া কুমিল্লার তিনটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। এই তিনটি মেডিকেল কলেজে ৪০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এগুলো হলো- ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
শনিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।
সভা শেষে এমপি বাহার সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ তিনটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা বেড থাকবে। এর মধ্যে ইস্টার্ন মেডিকেলে ২০টি এবং ময়নামতি ও সেন্ট্রাল মেডিকেলে ১০টি করে বেড থাকবে। আগামী বুধবারের মধ্যে এই তিনটি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চালু করা হচ্ছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তফা কামাল আজাদ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কলিম উল্লাহ, চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম, ময়নামতি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কেএম মান্নান, সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সফিকুর রহমান পাটোয়ারী, কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৮৯ জন। মারা গেছেন ৩৩৮ জন। গত বছরের ৭ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যু হয় ওই বছরের ১১ এপ্রিল। এরপর গত বছরের ৩ জুন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু করা হয় করোনা চিকিৎসা।
- বিষয় :
- করোনা চিকিৎসা
- হাসপাতাল
- কুমিল্লা
