ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিক্রি হয়ে যাচ্ছে নদীপাড় ফসলি জমির মাটি-বালু

বিক্রি হয়ে যাচ্ছে নদীপাড় ফসলি জমির মাটি-বালু
×

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:২৩

কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ফসলি জমি ও নদীপাড় থেকে অবৈধভাবে উর্বর মাটি কেটে ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে দিচ্ছে এলাকার প্রভাবশালীরা। এতে হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটকসহ জরিমানা করলেও নেপথ্যে থেকে যায় প্রভাবশালীরা। ফলে হাওরের মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। হাওর থেকে কাটা মাটি প্রথমে নির্দিষ্ট স্থানে স্তূপ করা হয়। পরে অস্থায়ী মাটিমহাল নাম দিয়ে বাল্ক্কহেড, নৌকা, ছোট-বড় ট্রলার ও ট্রাকে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নদীপাড়ের ভিটি বালু অবকাঠামো নির্মাণকারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হওয়ায় একইভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সরেজমিন এ চিত্র দেখা গেছে।


শুস্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় হাওরে মাটি উত্তোলনকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তারা বিস্তীর্ণ হাওরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি উত্তোলন করে চড়া দামে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের নিকলী, ইটনা, বাজিতপুর, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, ভৈরবসহ জেলা বিভিন্ন উপজেলার এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

গত বুধবার নিকলীর সিংপুর ইউনিয়নের ধনু নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে তিনজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- উপজেলার দামপাড়া গ্রামের আবু কালাম, কাউসার মিয়া ও হুমায়ুন। ইউএনও ও নির্বাহী হাকিম সামছুদ্দিন মুন্না এ দণ্ড দেন। তিনি দুটি বালুবাহী বাল্ক্কহেড জব্দ ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম ও শ্যালো মেশিন ধ্বংস করেন।

গত মাসে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে সিংপুর এলাকায় ঘোড়াউত্রা নদীর পশ্চিম পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করার সময় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৩ জনকে কারাদণ্ড দেন। এ সময় সাতটি ট্রাক, চারটি এক্সক্যাভেটর ও একটি বাল্ক্কহেড জব্দ করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মতিউর রহমান বলেন, যেভাবে হাওরের নদী ও জমি থেকে মাটি নিয়ে যাচ্ছে, তাতে কোনো দিন ওই সব জমি আর আবাদের আওতায় আনা যাবে না। পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে জটিল অবস্থার সৃষ্টি হবে। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী জানান, নদীপাড়ের মাটির পুরোটাই উর্বর। এ মাটির প্রাণ হলো জৈব পদার্থ। এতে আছে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফরফরাস। জমির ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চির মধ্যে এ জৈব পদার্থের শক্তি থাকে। জমির ওপরের ২০ থেকে ২৫ ইঞ্চি মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হলে এর উর্বরাশক্তি হারিয়ে যায়, যা ফিরে পেতে অন্তত দেড় দশক সময় অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, একটি দুটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এটি প্রতিহত করা যাবে না। এজন্য জড়িত চক্রকে সমূলে উৎপাটনের জন্য আইন প্রয়োগ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, মাটি উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউএনওদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।











আরও পড়ুন

×