ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কেরানীগঞ্জ ট্র্যাজেডি: স্বপ্ন পূরণ হলো না সোহানের

কেরানীগঞ্জ ট্র্যাজেডি: স্বপ্ন পূরণ হলো না সোহানের
×

নিহত সোহানের ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৭:০৪

আবু বক্কর সিদ্দিক সোহান (১৯)। স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বড় চাকরি করবেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন কলেজে। অর্থাভাবে কষ্ট হচ্ছিল পড়ালেখা চালাতে। তাই চলতি মাসেই যোগ দিয়েছিলেন ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক কারখানায়। ইচ্ছা ছিল টাকা জমিয়ে ফের শুরু করবেন পড়ালেখা। কিন্তু কারখানার ভয়ঙ্কর আগুন থামিয়ে দিয়েছে এই পরিশ্রমী তরুণের স্বপ্ন। দগ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর নিরন্তর চেষ্টাও করেন। শেষপর্যন্ত সবাইকে কাঁদিয়ে বুধবার না ফেরার দেশে চলে যান সোহান।

সোহানকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ ট্র্যাজেডিতে এ পর্যন্ত ২০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হলো। এরমধ্যে ১১ ডিসেম্বর আগুন লাগার পর কারখানার ভেতর থেকেই এক শ্রমিকের অঙ্গার হওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। অপর ১৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। এখনও ১২ জন দগ্ধ শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর।

আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও কলকারখানা পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, কারখানাটির কোনো অনুমোদনই ছিল না। সেখানে শ্রমিকবান্ধব পরিবেশও ছিল না। ঘটনার পরের দিন নিহত এক শ্রমিকের ভাই বাদী হয়ে কারখানার মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তবে পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

বুধবার দুপুরে দগ্ধ সোহানকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করলে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সামনে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোহানের বড় ভাই মো. আলমাস বিলাপ করে বলছিলেন, মঙ্গলবারও তার ভাইর শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে ছিল। শেষ পর্যন্ত ভাইটাকে বাঁচাতে পারলেন না।

তিনি জানান, তাদের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার গোপিন্দি গ্রামে। সেখানে ডেবরাই কারিগরি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথমবর্ষে পড়তো সোহান। অর্থাভাবে ঠিকমতো পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারছিল না। পড়ালেখার চাপ কম থাকায় পরিচিত একজনের কথায় কারখানাটিতে সে ৮ হাজার টাকা বেতনে কাজে যোগ দেয়। এমন অবস্থা হবে জানলে ভাইকে এখানে কাজে পাঠাতেন না।

আলমাস বলেন, সোহানের ইচ্ছে ছিল কয়েক মাস চাকরি করে টাকা জমিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে আবার গ্রামে ফিরে যাবে। আরও পড়ালেখা করে উচ্চশিক্ষিত হবে। কিন্তু এখন ওর লাশটা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

সোহানের বাবার নাম আবদুল জব্বার ও মায়ের নাম আয়েজা বেগম। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছোট ছিল।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ শঙ্কর পাল জানান, বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সোহানকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরের ৫০ ভাগ দগ্ধ ছিল। শ্বাসনালীও পুড়ে গিয়েছিল। এতোদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে তার চিকিৎসা চলছিল।

আরও পড়ুন

×