ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ক্রাইম পেট্রোলের মতো শিশুকে হত্যার চেষ্টা বন্ধুদের

ক্রাইম পেট্রোলের মতো শিশুকে হত্যার চেষ্টা বন্ধুদের
×

ফাইল ছবি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৪

বন্ধুদের কাছে আড়াই হাজার টাকায় নিজের স্কেটিং কেডস বিক্রি করেছিল ইয়াসিন আরাফাত (১২)। সেই টাকা চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বন্ধুরাই তাকে মেরে মৃত ভেবে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে গিয়েছিল আখ ক্ষেতের ভেতরে। রোববার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গড়গড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত তিন বন্ধু রাফি, রাফিন ও প্রিন্সকে। আটক তিন কিশোর স্বীকার করেছে, ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে এ হত্যাচেষ্টার ছক সাজিয়েছিল তারা, যাতে টাকা আর ফেরত না দিতে হয়। মঙ্গলবার পাবনা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা।

এদিকে মৃত ভেবে ফেলে রাখার দীর্ঘ প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রক্তাক্ত মুমূর্ষু অবস্থায় আরাফাতকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রডের উপর্যুপরি আঘাতে মাথার একটা অংশে খুলি ভেঙে মগজে ঢুকে গেছে। ছেলেটির দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। সুস্থ হতেও সময় লাগবে।

গড়গড়ি গ্রামের আকমল হোসেন মল্লিকের একমাত্র ছেলে আরাফাত আওতাপাড়া সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তার বন্ধু রাফি, রাফিন ও প্রিন্স বাঁশেরবাদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। রোববার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে সারাদিনে আর বাড়ি ফেরেনি আরাফাত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থানা পুলিশকে জানান বাবা আকমল হোসেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। আরাফাতের এক বন্ধু রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কিছুটা সন্দেহ হয় পুলিশের। এতে অন্য দুই বন্ধু রাফিন ও প্রিন্সকে ডেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একপর্যায়ে তারা আরাফাতকে হত্যা চেষ্টার স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে আখক্ষেত থেকে আরাফাতকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেলে নেয় পুলিশ।

আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাফি জানায়, আরাফাত বারবার টাকা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রাফিন ও প্রিন্সের সঙ্গে তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে রাফি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি রড বাজারের ব্যাগে করে দূরের আখক্ষেতে নিয়ে রাখে তারা। রোববার দুপুরে তিন বন্ধু মিলে কৌশলে আরাফাতকে আখক্ষেতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আরাফাতের পেছন থেকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করতে থাকে রাফি। একপর্যায়ে আরাফাত মাটিতে পড়ে গেলে মৃত ভেবে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। রডটি ফেলা হয় পুকুরে। রাফি জানায়, সে ভারতীয় ক্রাইম পেট্রোল সিরিয়াল দেখে এই পরিকল্পনা করেছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, আরাফাতের চাচা আবু তাহের মল্লিক বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। আটক তিন কিশোর পাবনার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) শামীমা আক্তার বলেন, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে। শিশুরা ক্রাইম পেট্রোল দেখে হত্যার মতো কাজে সাহস পাচ্ছে, এটা খুবই আতঙ্কের বিষয়। এ বিষয়ে পরিবারকেও সন্তান সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

×