'সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদমুক্ত করতে প্রয়োজন সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ'
অনুষ্ঠানে অতিথিরা- সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:০৪ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:০৯
সাহিত্যবিমুখ হওয়ায় সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বেড়েই চলেছে। এ জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তবুদ্ধির চর্চা বাড়াতে হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে প্রয়োজন সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ।
বুধবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের পাঁচ দিনব্যাপী সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসবের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক ও কবি জুয়েল মাজহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি মুস্তাফিজ শফি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নজরুল একাডেমি হবিগঞ্জের সভাপতি কবি তাহমিনা বেগম গিনি এবং কবি ও নাট্যকার রুমা মোদক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিষদের সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলেও সাহিত্যচর্চা কমে যাওয়ায় তৈরি হয়নি মননশীলতা। এ কারণে একটি কালো শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কালো শক্তি মোকাবিলায় এমন মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। অনুষ্ঠানে তিনি স্বরচিত দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
জুয়েল মাজহার বলেন, কবিতা স্বদেশকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরে। তেমনি মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনেও কবিতায় ছিল স্বদেশপ্রেম। রবীন্দ্র-নজরুলের কবিতা মিশে রয়েছে আমাদের আত্মার সঙ্গে। কবিতা ভালোবাসতেন বঙ্গবন্ধুও। গণঅভ্যুত্থানের সময় শামসুর রাহমানের 'চাঁদ সওদাগর' কবিতায় ফুটে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা। বিভিন্ন সময় কবিরা স্বদেশকে ধারণ করেছেন। তিনি স্বরচিত দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
অনুষ্ঠানের এই পর্বে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করে। রাতে তৃতীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক)। ঢাকা থেকে আসা সংগীতশিল্পীরা এতে গান পরিবেশন করেন। এর আগে স্থানীয় 'পদক্ষেপ আবৃত্তি' পরিষদ মনোমুগ্ধকর কবিতা আবৃত্তি করে। পরে এককভাবে আবৃত্তি করেন স্থানীয় কবিরা। এলাকার সংস্কৃতিমনা মানুষের ভিড় ছিল অনুষ্ঠানস্থলে। মাঠের চারদিকে ছিল ৩০টিরও বেশি স্টল। ছোলা, বাদাম আর ফুচকা খাওয়ার মধ্য দিয়েই মনোরম পরিবেশে গুণী কবিদের আবৃত্তি উপভোগ করেন শ্রোতারা।
চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসব গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুনারুঘাট দক্ষিণাচরণ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় খেলার মাঠে শুরু হয়। ২১ ডিসেম্বর এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের চারটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরাও যোগ দিচ্ছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। পরিষদের ৩০ বছর পূর্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে 'প্রত্যয়' নামের সাময়িকী। এতে তুলে ধরা হয়েছে সংগঠনের ৩০ বছরের কর্মকাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জের ইতিহাস।
