মেরামত কাজে ধীরগতি, যানজটে নাকাল যাত্রীরা
সড়কে সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট
এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২:৫৬ | আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৪:২৭
‘রাস্তা মেরামতের কারণে গাড়ি এক লাইনে চলছে। গাড়ি সামনে এগোচ্ছে না। একই জায়গায় বসে আছি প্রায় দুই ঘণ্টা। ভোরে রওনা হয়েছি ঢাকায় পৌঁছে অফিস করবো বলে। এখনও অর্ধেক রাস্তায় যেতে পারলাম না। সামান্য ৮-১০ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী আক্কাছ আলী। তার মতো দুর্ভোগে পড়েছেন অন্য যাত্রীরাও।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ অংশে মেরামত কাজের কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জের গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের খানাখন্দের মেরামত কাজ চলছে। এ কারণে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গগামী যানবাহনে থাকা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

দীর্ঘদিন পরে সিরাজগঞ্জ সওজ অফিস খানাখন্দসহ সড়কটির ওই অংশে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ শুরু করেছে। যার ফলে যাত্রীবাহী-মালবাহী শত শত যানবাহন আটকা পড়ছে তাড়াশের মহাসড়কের মহিষলুটি থেকে ১০ নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের একপাশ বন্ধ রেখে আরেক পাশের যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এ কারণে মহাসড়কের দু’পাশে প্রচুর যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহ থেকে ভোর থেকে গভীর পর্যন্ত যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে যানজট বেড়েই চলছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।
মোবাশ্বর হোসেন নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, অফিসে যাব। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। সংস্কারকাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সময়ক্ষেপণ করছে। যেখানে শ’খানেক শ্রমিকের কাজ করার কথা সেখানে মাত্র ১৫ জন শ্রমিক দিয়ে তারা কাজ করাচ্ছে।
এদিকে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের নিচের অংশের সড়কটির ৫-৬ কিলোমিটার ভারী যানবাহন চলার কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মূলত মহাসড়ক মেরামত করতে গিয়ে যানজটে পড়া ভারী যানবাহনগুলোর পার্শ্ব রাস্তায় চলাচল করায় সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সড়ক ও জনপদ বিভাগ নির্বিকার।
ন্যাশনাল পরিবহনের চালক আওলাদ আলী (৫৫) জানান, তাড়াশের মহাসড়কের ওই অংশে যানজট এড়াতে ভারী গাড়িগুলো মহাসড়কের পার্শ্ব রাস্তায় নেমে যাওয়ায় ওই এলাকায় পরিবহন চলাচলে অরাজকতা চলছে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম পিকে মহাসড়কের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, মেরামত কাজ শেষ করতে আরও ৩-৪ মাস সময় লাগবে।
