ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

৯৫ বছর ধরে বিনামূল্যে খাবার জোগায় অন্নছত্র ট্রাস্ট

৯৫ বছর ধরে বিনামূল্যে খাবার জোগায় অন্নছত্র ট্রাস্ট
×

বিনামূল্যে মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্টে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন অনেকে

শিপংকর শীল

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৪:০৯ | আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৪:৩১

‘ক্ষুধা লাগলে পেট ভরে খেতে এখানে ছুটে আসি। ঢাকা শহরে তো কেউ কাউকে খাবার দেয় না। তবে মদনমোহনের বাড়িতে আসলে কখনও খালি পেটে ফিরে যেতে হয়নি।’ 

কথাগুলো বলছিলেন পুরান ঢাকার নবাবপুরের মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্টে খেতে আসা মো. কামাল। তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে বিনামূল্যে তিনি নিয়মিত সেখানে খাচ্ছেন।

কামালের মতোই অন্নছত্র ট্রাস্টে খেতে এসেছেন মুকুল। ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলে তার সংসার। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে দুপুরবেলা এখানে খেতে আসি। এতে একবেলার খাবার খরচ বাঁচে।

কথা হয় মদনমোহন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক শিবু চক্রবর্তীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, ১৯২৪ সাল থেকে শুরু হয় মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্টের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার খাওয়ানোর কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলছে।

এই মহৎ উদ্যোগটি  নেন মদনমোহন পাল। মদনমোহন ছিলেন নবাবপুরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। জনশ্রুতি আছে, তিনি সে আমলে ১০১টি বাড়ির মালিক ছিলেন। তখন থেকেই তিনি ১০১ জনকে খাওয়ানোর  সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে মদনমোহনের নয়টি বাড়ি ট্রাস্টের নামে করে দেওয়া হয়েছে। এই নয়টি বাড়ির ভাড়া থেকেযে আয় হয় তা দিয়েই চালানো হয় অন্নছত্র ট্রাস্ট।  

মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্টের খাবার

নবাবপুরের ১০৯ নম্বর রোডে মদনমোহন পালের বাড়িতে ৯৫ বছর ধরে চলছে বিনামূল্যে দুপুরে খাবার পরিবেশনের কাজ। প্রতিদিন ২০০-৩০০ মানুষকে খাওয়ানো হয়।

মদনমোহন ট্রাস্ট্রের প্রসাদ পরিবেশনের কাজে নিয়োজিত সুখরঞ্জন পাল বলেন, ১৯৯০ সাল থেকেই  ট্রাস্টের প্রসাদ বিতরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি। এখানে কোনো জাতি ভেদাভেদ নেই, যে আসবে সে খেতে পারবে। সাধারণত দরিদ্র মানুষরাই এখানে খাবার খেতে আসেন। তারা যে খাবার খান এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সেই খাবারই খান।

খাবার খেয়ে পরিতৃপ্ত মোবারক হোসেন বলেন, এখানে গত তিন বছর যাবৎ খেতে আসি। কোনদিন খাবার না খেয়ে ফিরে যায়নি। নিজে  খেয়ে বউ-বাচ্চাদের জন্যও নিয়ে যাই। আল্লাহর কাছে প্রাণ ভরে দোয়া করি মদনমোহনের পরিবারের জন্য। 

পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অনিমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, মূলত এখানে নিরামিষ খাবার রান্না হয়। প্রত্যেক মাসে দুইটি একাদশী এবং জন্মষ্টমী ছাড়া বাকি সবদিনেই এখানে খাওয়ানো হয়। বছরে ২৪ দিন ছাড়া বাকি সবদিনেই প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। জামাই ষষ্ঠী, পূজা, পহেলা বৈশাখেও খাবারের বিশেষ আয়োজন থাকে। বর্তমানে এই ট্রাস্টের কর্মকতা-কর্মচারী আছেন ১২ জন। তার মধ্যে দুইজন রান্না এবং পূজার কাজ করেন।

সকাল সাড়ে ১১টা থেকে খাবার পরিবেশন শুরু হয় বলে জানান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পরিমল ভট্টাচার্য। 

তিনি জানান, অন্নছত্র ট্রাস্টের অন্যতম শর্ত হচ্ছে মদনমোহন পালের বংশধররা পালাক্রমে ট্রাস্টি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত থেকে পরিচালনা করবে। তিনছেলের মৃত্যুর পর বর্তমানে দীপক কুমার পাল, মিন্টুরঞ্জন পাল ও তপন পাল ট্রাস্ট পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

আরও পড়ুন

×