ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ধানের সঙ্গে শত্রুতা, ৫ বিঘা জমির আমন নষ্ট

ধানের সঙ্গে শত্রুতা, ৫ বিঘা জমির আমন নষ্ট
×

ছবি: সমকাল

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২১ | ১০:১৯ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২১ | ১০:২০

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের পাতইল গ্রামে কীটনাশক প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে রোপণ করা আমন ধান নষ্ট করেছে। এতে কপাল পুড়েছে বর্গাচাষি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তারানু সরদার ও মিঠুন আলীর। এ ঘটনায় জমির মালিক শামসুল হক শাহ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

পোরশা উপজেলার নোনাহার গ্রামের শামসুল হক শাহর স্ত্রী উম্মে কুলসুম ওয়ারিশমূলে পাতইল মৌজার ১ একর ৮৭ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ওই জমি বর্গা নিয়ে পাতইল গ্রামের তারানু সরদার ও কুশমইল গ্রামের মিঠুন আলী আবাদ করছিলেন।

তারানু সরদার বলেন, খেয়ে না খেয়ে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করি। পানি সেচ, সার-বিষ সব দেওয়া শেষ হয়েছে। সবে ধান বের হতে শুরু করেছে। এক মাসের মধ্যে ঘরে উঠত। অথচ শত্রুতা করে গত সোমবার রাতে কীটনাশক দিয়ে ধানগাছ পুড়িয়ে দিল। তার অভিযোগ, পাশের কাটনা গ্রামের মোদাচ্ছের উদ্দিন, পাতইল গ্রামের জাহাঙ্গীর ও হুমায়ন ধান রোপণ করলেও ঘরে তুলতে পারবেন না বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। তার ধারণা, তারাই এ কাজ করেছে।

তারানু সরদারের বাবা বিরসা সরদার বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে এ জমি বর্গাচাষ করছি। জাহাঙ্গীর ও হুমায়নরা এর আগে এ জমি বর্গাচাষ করত। এখন তারা না পেয়ে এবং জমির প্রতিপক্ষ অংশীদারদের কথামতো এ কাজ করেছে।

আরেক বর্গাচাষি মিঠুন বলেন, আমিও অনেক কষ্টে আবাদ করেছি। আমার সব ধান নষ্ট করে দিয়েছে। এখন আমি কী ঘরে তুলব। কীভাবে সংসার চালাব। কীভাবে ঋণ শোধ করব। কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।

এদিকে, জমির মালিক উম্মে কুলসুমের স্বামী শামসুল হক শাহ বলেন, ওয়ারিস সূত্রে আমার স্ত্রী এ জমির মালিক। তার ভাই পোরশা উপজেলার বাংধারা গ্রামের আবুল হোসেন বাবু এর মালিকানা দাবি করে। এ নিয়ে কোর্টে বাটোয়ারা মামলাও রয়েছে। বাবুই আগের বর্গাচাষিদের লেলিয়ে দিয়ে এ ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে জমির মালিক দাবিদার আবুল হোসেন বাবু বলেন, প্রতিপক্ষ নিজেরা ধান পুড়িয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এ জমি আমাদের নয়। আগে এখানে বর্গাচাষ করতাম। কিন্তু এখন করি না। আমরা কেন এ কাজ করব। আমাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ন কবির বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×