ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানা, নৌ চলাচল ব্যাহত

কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানা, নৌ চলাচল ব্যাহত
×

ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২১ | ০৮:৩০ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২১ | ০৮:৩০

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানার কারণে নৌ চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। হ্রদের বুকে বিভিন্ন স্থানে ভাসমান কচুরিপানার কারণে একদিকে নৌ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে হ্রদ তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

১৯৬০ সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাঙামাটির কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দেওয়া হয়। এতে ২৫৬ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি হয়, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ হ্রদ হিসেবে পরিচিত। এ হ্রদ সৃষ্টির ফলে রাঙামাটির ১০ উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা- বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচরের সঙ্গে যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌপথ। এসব উপজেলার মধ্যে নানিয়ারচর, লংগদু ও বাঘাইছড়িতে সড়ক যোগাযোগ থাকলেও বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। এসব উপজেলাবাসীকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য নেওয়াসহ জীবনের তাগিদে প্রতিনিয়ত রাঙামাটি শহরে আসা-যাওয়া করতে হয়। কিন্তু কচুরিপানার কারণে তাদের দুর্ভোগের সীমা নেই। সম্প্রতি ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন স্থানে কচুরিপানার স্তূপ জমে উঠেছে। এসব স্তূপ সরাতে প্রশাসন এগিয়ে আসছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

সরেজমিন দেখা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের নৌ রুটে বিশেষ করে শুভলং, শিলেকঢাক, মাইসছড়ি, বিল্লোছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে কচুরিপানা জমে গেছে। অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে জেলেদের মাছ শিকার ও নৌ-চালকদের যাত্রী পরিবহনে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা কচুরিপানার কারণে হ্রদের বিভিন্ন স্থানে অবাধে ঘুরতে পারছেন না।

নৌকাযাত্রী অসীম চাকমা, নিরত বরণ চাকমাসহ অনেকে জানান, হ্রদের বুকে কচুরিপানার কারণে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্বাভাবিক গতিতে নৌকা চলতে না পারায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। দুর্ভোগ থেকে মুক্তির জন্য দ্রুত কচুরিপানা অপসারণে তারা সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

নৌ-চালক নোবেল চাকমা, মনো চাকমা, শান্তিময় চাকমা জানান, বরকল থেকে রাঙামাটি শহরে যাওয়ার পথে হ্রদের বিভিন্ন স্থানে থাকা কচুরিপানার কারণে নৌকা আটকে যায়। অনেক সময় বোটের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। সূর্যের আলো থাকতেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে হয়।

কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগে কাপ্তাই হ্রদ থেকে কচুরিপানা অপসারণ করেছিল লঞ্চ মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ মৎস্য করপোরেশন। তবে আমাদের কছে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই। হয়তো আবারও হ্রদে কচুরিপানা জমেছে। সেগুলো শিগগিরই অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×