ঈশ্বরগঞ্জে সালিশে ধর্ষণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, পরে মামলা
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২১ | ০৭:৫১ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২১ | ০৭:৫১
টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকের কাজ করা এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে টাকার অঙ্কে মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে সালিশ করে একজন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দেওয়া হয়। ওই অবস্থায় নির্যাতিতা তরুণী বাদী হয়ে ধর্ষক ও সালিশ করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। রোববার সকালে মামলাটি করা হয়। বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের বিলখেরুয়া গ্রামের আবু তালেব পিনু একাধিক বিয়ে করেছেন। তিনি আবদুল মোতালেবের ছেলে। বাড়ির কাছেই জ্ঞানের মোড়ে একটি মুদি দোকান রয়েছে পিনুর। দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে সংসার করলেও প্রতিবেশী টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক তরুণীর ওপর নজর পড়ে তার। গাজীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করেন ওই তরুণী। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদ পাতেন পিনু। তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস, ২০ শতক জমি লিখে দেওয়া ও পৃথক বাড়ি করে দেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়। পিনুর আশ্বাসে এক পর্যায়ে রাজি হন ওই তরুণী। কিন্তু তরুণীকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ শেষে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন পিনু। ১৪ নভেম্বর তরুণীর বাড়িতে গিয়ে আটকা পড়েন তিনি। লোকজন দেখে ফেলায় বিষয়টি জানাজানি হয়। ওই সময় পিনুকে বিয়ের কথা বলা হলেও সে অস্বীকার করতে থাকে। পরে তরুণী ও তার পরিবার থানায় যেতে চাইলে তাদের আটকানো হয় স্থানীয়ভাবে সালিশ করার কথা বলে।ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এমদাদুল হকের নেতৃত্বে কয়েক দফা সালিশ হয়। পিনু বিবাহিত হওয়ায় ওই সংসার টেকাতে সিদ্ধান্ত হয় তরুণীর পরিবারকে টাকা দিয়ে মীমাংসা করা হবে। কিন্তু তরুণী তাতে সম্মত হচ্ছিলেন না। ৬০ হাজার থেকে কয়েক দফায় বাড়িয়ে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় ধর্ষণের মূল্য। নির্যাতিতা তরুণী আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে তাকে ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন হুমকি দেন। এ অবস্থায় ওই তরুণী তার পরিবারের লোকজন নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে যান। চেয়ারম্যান থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিলে রাতেই তারা থানায় যান। পরে পুলিশ যাচাই শেষে রোববার নির্যাতিতার করা অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন। এতে পিনু ছাড়াও আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দেওয়ায় ইউপি সদস্য এমদাদুল হকসহ আরও দু'জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধেই মামলাটি নথিভুক্ত করে। পরে রোববার দুপুরে নির্যাতিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।
নির্যাতিতা তরুণী জানান, তাকে বিয়ের আশ্বাসে পিনু ধর্ষণ করে। তার বাড়িতে আসার পর আটকা পড়লে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানায়। তাকে ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে মেম্বার ও অন্যরা সালিশ করে এক লাখ টাকা দিতে চায়। কিন্তু তিনি বিচারের জন্য থানায় গেছেন। মেম্বার এমদাদুল হক বলেন, তিনি কোনো সালিশ করেননি, টাকাও নির্ধারণ করেনি। এলাকার কয়েকজন সালিশ করেছিল শুনেছেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল কাদের মিয়া বলেন, টাকা দিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ কয়েকজন সালিশ করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
