ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ইউপি নির্বাচন: কৃষক লীগ নেতার হাতে চুড়ি পরালেন আ'লীগ নেতা

ইউপি নির্বাচন: কৃষক লীগ নেতার হাতে চুড়ি পরালেন আ'লীগ নেতা
×

হাতে চুড়ি নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক লীগ নেতা মোশারেফ হোসেন- সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২১ | ০৯:৩৭ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২১ | ০৯:৪৪

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক কৃষক লীগ নেতা মোশারেফ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে চুড়ি পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার বিকেলে গিমটাকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটার পর মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী। এ সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

লিখিত বক্তব্যে মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘কচুয়া সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক লীগের সভাপতি ছিলাম। গত শনিবার কচুয়া সদর ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রার্থী সেলিনা বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করেছিলাম। তবে সেলিনা বেগম নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বিজয়ী প্রার্থী মোহিনি বেগমের পক্ষে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক বালী শোকরানা রব্বানি আজাদ ওরফে আজাদ বালি ও তার সমর্থকরা হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।’

মোশারেফ হোসেন আরও বলেন, ‘হুমকির ধারাবাহিকতায় গত সোমবার বিকেলে আজাদ বালি, ইকতিয়ার হোসেন, শহিদুল শেখসহ ১৫-২০ জন লোক বাড়িতে এসে হুমকি দেয়। এ সময় স্ত্রী, পুত্রবধূসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে আজাদ বালির নির্দেশে ইকতিয়ার হোসেন আমার হাতে চুড়ি পরিয়ে দেয়। ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের লোকজন বাড়িতে ভিড় করতে থাকে। একাত্তর বছর বয়স আমার। এই অপমান সহ্য করে কীভাবে গ্রামে বসবাস করব?’

তিনি বলেন, ‘শুধু আমাকে অপমান করা নয়; আজ (মঙ্গলবার) আজাদ বালি ও তার লোকজন গ্রামের সাহাপাড়া এলাকার খোকন সাহা, পলাশী রানী সাহা ও সুশান্তকে মারধর করেছে। তাদের অপরাধ ছিল- সেলিনা বেগমের সমর্থক ছিলেন।’ মোশারেফ হোসেন জানান, মোহিনি বেগম জিতলে হাতে চুড়ি পরবেন বলে ভোটের আগে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে ভোটের ফলাফলে মোহিনি বেগমই জিতে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, বিজয়ী মোহিনি বেগমের কর্মী-সমর্থকরা মোশারেফ হোসেনের বাড়ির পাশ দিয়ে মিছিল করে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে তার হাতে চুড়ি পরিয়ে দেয়। যেহেতু মোশারেফ আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন, তাই ক্ষোভ থেকেই প্রতিপক্ষ এ ঘটনা ঘটায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাদ বালি বলেন, ‘এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আমার নির্দেশে ঘটেনি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ নাটক সাজানো হয়েছে। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তার তীব্র নিন্দা জানাই। দোষীদের শাস্তির দাবি করি।’

আরও পড়ুন

×