সিরাজগঞ্জে আ'লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ
অস্ত্রধারীরা অজ্ঞাত, পুলিশ বলছে তদন্ত হচ্ছে
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৩:২৯
সিরাজগঞ্জ শহরে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে গুলি ছোড়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বিএনপি নেতাদের দাবি, অস্ত্রধারীরা যুবলীগের কর্মী। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে। এর মাধ্যমেই পিস্তল ও রামদা প্রদর্শনকারীদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিশের সামনে রামদা হাতে মহড়া দেওয়া বিশাল দেহের কালো রঙের ব্যক্তির নাম সাগর আলী ওরফে 'পাঙাশ'। তার বাড়ি শাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া সংলগ্ন ঢুলিপাড়ায়। শহীদ আলীর ছেলে সাগর এক সময় ফেরি করে চানাচুর বিক্রি করতেন। দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও ভবঘুরে সাগর বর্তমানে সরকারদলীয় লোকজনের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করেন। বিকেলে তার এলাকায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল ইসলাম তালুকদার রানা বলেন, সংঘর্ষের সময় ৩-৪ জন যুবলীগের কর্মীকে আমাদের লোকজনের ওপর পিস্তল তাক করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। আমরা এখন পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ করতে পারিনি। বিষয়টি দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ বলেন, কোলগয়লা ও দত্তবাড়ি মহল্লার দু'জন যুবলীগ কর্মী সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে ছিল বলে নাম পাওয়া গেছে। আরও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।
জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল বলেন, বৃহস্পতিবার বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। পরে আমাদের নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। সেখানে রামদা বা অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি আমরা দেখিনি বা জানি না। সংঘর্ষে কোনো দল বা তাদের লোকজন রামদা বা অস্ত্র উঁচিয়ে ভীতি প্রদর্শন বা গুলি ছুড়লে তা পুলিশ খুঁজে বের করবে। আর সাগর নামে যার কথা বলা হচ্ছে, তিনি আমাদের কেউ নয়। সিরাজগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, দু-একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে পিস্তল বা রামদা হাতে যাদের দেখা গেছে, তাদের কেউ-ই আমাদের দলের নন।
সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় বিএনপির শতাধিক লোকজনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে সংঘর্ষে পিস্তল বা রামদা প্রদর্শনকারীদের বিষয়টি বের হয়ে আসবে।
