ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আশুগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড

স্বামী-সন্তানের পর চলে গেলেন রেখাও

স্বামী-সন্তানের পর চলে গেলেন রেখাও
×

অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত মকবুল-রেখা দম্পতির পরিবার-যা আজ কেবল স্মৃতি। (বা থেকে) মকবুল, স্ত্রী রেখা, ছোট ছেলে জুবায়ের ও বড় ছেলে আরিফ হোসেন জয়।

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২২ | ০৪:৩৮ | আপডেট: ০১ মার্চ ২০২২ | ০৪:৪৬

স্বামী ও সন্তানের পর চলে গেলেন রেখা আক্তারও। টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে পরাজিত হলেন তিনি।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রেখা। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিশ্চিহ্ন হলো সুন্দর-সুখী এক পরিবার।

গত মঙ্গলবার ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বাজার এলাকার আলাই মোল্যা ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও আশুগঞ্জ বাজারে মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক মকবুল হোসেন -রেখা দম্পত্তি দুই ছেলেসহ ভবনটির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রেখার ছোট ছেলে জুবায়ের হোসেন (৭)। পরদিন বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেখার স্বামী মকবুল হোসেন (৪০)।

একই দিন রাতে অন্তঃসত্ত্বা রেখা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেখার বড় ছেলে আরিফ হোসেন জয়। এ ঘটনার আহত রেখা-মকবুল দম্পত্তির সঙ্গে সাবলেট থাকা এনজিও কর্মী মো. জামিয়ার রহমান বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।  

ছেলেসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মকবুলের ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা খোশেদা বেগমসহ পুরো পবিবার-স্বজন ও গ্রামবাসী। 

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্ট সাকির্ট ও টেলিভিশনের পিকচার টিউব ফেটে যাওয়া মনে করলেও বিকট শব্দের উৎস নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধুম্রজালের নিরসন হয়নি।

নিহত রেখা বেগমের বরাত দিয়ে নিহত মকবুলের ভাতিজা শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে তারা বাসার গ্যাসের চুলায় লিকেজ হওয়ার কথা বাড়ির মালিকের ছেলে ও কেয়ারটেকারকে জানিয়েছিলেন। তবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

এছাড়া চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মমিনুল জানান, মকবুলের শরীরের ৬২ ভাগ, জয়ের ৬০ ভাগ এবং রেখার শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল। এদিকে এনজিও কর্মী মো. জামিয়া রহমানের সহকর্মীরা জানান, তার শরীরের ২০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।

এব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. আশরাফুল হক ও আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বর্ণনা করে সমকালকে বলেন, তদন্ত কমিটির চিঠি হাতে পেলেই আমরা কাজ শুরু করবো।

আরও পড়ুন

×