বিডার উদ্যোগে বাংলাবিজ চালু
তিন কার্যদিবসের মধ্যেই পাওয়া যাবে ব্যবসা শুরুর নিবন্ধন
বিডার উদ্যোগে চালু হয়েছে বাংলাবিজ। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩৯
দেশের বিনিয়োগ সেবাকে একীভূত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে ‘বাংলাবিজ ২.০ চালু’ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এর মাধ্যমে তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
এর আগে বিডা ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ বাংলাবিজ ২.০ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি, দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তথ্যভিত্তিক পোর্টাল হিসেবে বাংলাবিজের প্রথম সংস্করণ গত বছরের সেপ্টেম্বরে চালু করা হয়। তখন বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বিসিকের বিদ্যমান ওএসএস পোর্টালগুলো সংযুক্ত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক ডিজিটাল প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ চালু করা হয়।
এ প্রসঙ্গে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথ খুলল। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরু করতে নেম ক্লিয়ারেন্স বা নামের ছাড়পত্র, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স– এই পাঁচটি অনুমোদন এক আবেদনেই সম্পন্ন করা যাবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা শুরুর নিবন্ধন পাবেন।
বিনিয়োগকারীদের বাংলাবিজকে মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা কমে আসবে বলে দাবি করেন আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে বাংলাবিজকে বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগির এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে এমন নতুন ফিচার যুক্ত করা হবে যা বিনিয়োগের খরচ, সময় ও অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যেখানে সম্ভব সেগুলো বাদ দেওয়া জরুরি।
জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ, দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন, বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। অনলাইন সিস্টেমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার মাধ্যমে বাংলাবিজ বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন সনদসহ ২০টির বেশি ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন।
বাংলাবিজের নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস’ ফিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ডকুমেন্টস সাবমিট করা বাধ্যতামূলক, তা আগেই শনাক্ত করতে পারবেন। এতে আরও যুক্ত হয়েছে বাংলাবিজ আইডি, যা একটি ইউনিক ব্যবসায়িক পরিচিতি নম্বর হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে।
- বিষয় :
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
- বিডা
