ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টানা তিন মাস বাড়ল মূল্যস্ফীতি

টানা তিন মাস বাড়ল মূল্যস্ফীতি
×

কোলাজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৫৩ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:১২

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বাজারে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা বেশি ছিল। এ কারণে মাসটিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে যা ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত ৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে জানুয়ারি মাসে। এ নিয়ে টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি বাড়ল।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল রোববার মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। 

প্রতি মাসে মাঠপর্যায় থেকে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে থাকে বিবিএস। ৬৪টি জেলার ১৫৪টি হাটবাজার থেকে দামের তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যউপাত্তের আলোকে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং মূল্যস্ফীতির হার প্রণয়ন করা হয়। সিপিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কতটা বাড়ল তার শতকরা হারই পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি। এটির ১২ মাসের চলন্ত গড় হিসাব হচ্ছে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি।

পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত এক বছরের মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে। মাঝে কয়েক মাস বাদে অক্টোবর পর্যন্ত মোটামুটি কমার ধারাতেই ছিল মূল্যস্ফীতি। তবে নভেম্বর মাসে এসে ফের মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। গত বছরের ডিসেম্বরের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বাড়ল মূল্যস্ফীতি। 

জানতে চাইলে  বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক গতকাল সমকালকে বলেন, জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি যতটুকু বেড়েছে তা খুব অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের হাতে টাকার সরবরাহ বেড়েছে। রেমিট্যান্স পরিস্থিতিও বেশ ভালো। ফলে মানুষের হাতে টাকা আছে। এতে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। তবে যে হারে চাহিদা বেড়েছে সে হারে জোগান বাড়ছে না। এ কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। জোগান কম হওয়ার কারণ হচ্ছে বিনিয়োগ কম। বিনিয়োগ কম হওয়ার কারণ উৎপাদনও কম। সাধারণত নির্বাচনের ঠিক আগে কোনো দেশেই বিনিয়োগ বাড়ে না। সুতরাং, মূল্যস্ফীতি যতটুকু বেড়েছে তাকে অপ্রত্যাশিত বলা যাবে না। নির্বাচন ও রোজার কারণে আগামী মাসগুলোত মূল্যস্ফীতি হয়তো আরও বাড়তে পারে। 

বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা আগের মাস ডিসেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। অবশ্য গত বছরের জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল আরও বেশি। ওই মাসে ছিল ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ। 

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ক্রমেই কমছে। জানুয়ারি মাস শেষে এ হার দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা গত ডিসেম্বর মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। 

মূল্যস্ফীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি। জানুয়ারি মাসে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মাসটিতে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

জানুয়ারি মাসে দেশের গ্রামাঞ্চলে খাদ্যপণ্যের চেয়ে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল। মাসটিতে  গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। 

ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতিতে। জানুয়ারি মাসে শহরাঞ্চলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, যেখানে খাদ্যবর্হিভূত পণ্যে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন

×