ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অ্যাপোলো-১৩

চাঁদে বিপর্যয় থেকে নভোচারীদের ফেরা 

চাঁদে বিপর্যয় থেকে নভোচারীদের ফেরা 
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪২ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৪

আর্টেমিস-২ অভিযানে চারজন নভোচারী বর্তমানে চাঁদের পথে রয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর মানুষকে আবার চাঁদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার এই রোমাঞ্চকর অভিযানের মধ্যেই একটি পুরোনো প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযানের মাঝপথে যদি মহাকাশযান বিকল হয়ে পড়ে, তবে নভোচারীরা কীভাবে পৃথিবীতে ফিরবেন? তথ্যসূত্র: হিস্ট্রি ডটকম। 

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ অভিযানে। চাঁদে অবতরণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেও মাঝপথেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এই চন্দ্রাভিযানটি।  ওই বছরের ১৩ এপ্রিল পৃথিবী থেকে প্রায় দুই লাখ মাইল দূরে থাকাকালে হঠাৎ একটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে অ্যাপোলো-১৩ মহাকাশযান। সার্ভিস মডিউলের অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানের মূল শক্তি ও জীবনধারণ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ফলে তিন নভোচারী জিম লাভেল, ফ্রেড হেইস এবং জ্যাক সুইগার্ট চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। কমান্ডার লাভেল তখন মিশন কন্ট্রোলে সেই বিখ্যাত বার্তাটি পাঠান- ‘হিউস্টন, উই হ্যাভ হ্যাড এ প্রবলেম।’ ঐতিহাসিক অ্যাপোলো-১১-এর পর মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ কমে গিয়েছিল। কিন্তু অ্যাপোলো-১৩-এর নভোচারীদের এই জীবনমরণ লড়াই পুরো বিশ্বের দৃষ্টি আবার মহাকাশের দিকে ফিরিয়ে আনে। 

হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলে নাসার অপারেশনস টিম ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, নভোচারীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো চাঁদের মহাকর্ষ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশযানকে ঘুরিয়ে আনা, যা ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি নামে পরিচিত। সহজভাবে বললে, এটি অনেকটা গুলতির মতো, চাঁদের চারপাশে ঘুরে গতি নিয়ে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসা। 

লাইফবোট হিসেবে লুনার মডিউল
অ্যাপোলো-১৩-এর মূল যান কমান্ড ও সার্ভিস মডিউল বিকল হয়ে যাওয়ায় নভোচারীরা আশ্রয় নেন ছোট লুনার মডিউলে। মূলত চাঁদের পৃষ্ঠে স্বল্প সময়ের জন্য দুই নভোচারী বহনের উদ্দেশ্যে তৈরি এই মডিউলটি তিনজনকে নিয়ে দীর্ঘ মহাকাশযাত্রার জন্য উপযুক্ত ছিল না। ছোট পরিসর, সীমিত শক্তি– সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। চাঁদের পেছন দিয়ে ঘুরে আসার সময় অ্যাপোলো-১৩ নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় দুই লাখ ৪৮ হাজার মাইল দূরে পৌঁছান, যা এখনও মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বের রেকর্ড। 

নতুন ইতিহাস গড়ার পথে 
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আর্টেমিস-২ মিশনও একই ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করছে। তবে এবারের প্রযুক্তি অনেক বেশি আধুনিক। নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় আড়াই লাখ মাইল দূরে পৌঁছাতে পারেন, যা অ্যাপোলো-১৩-এর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে। 
 

আরও পড়ুন

×