৭৫০ বছরের পুরানো লাইব্রেরি যেন এক জীবন্ত ইতিহাস
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৬:৪৭ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ২১:১০
অক্সফোর্ডের এক কোণে এমন একটি লাইব্রেরি আছে, যেখানে ঢুকলেই মনে হবে আপনি হঠাৎ করে কয়েক শতক পেছনে চলে গেছেন। পুরোনো কাঠের গন্ধ, চেইনে বাঁধা বই, আর নীরবতার ভেতর লুকিয়ে থাকা অনন্য ইতিহাস-সব মিলিয়ে মের্টন কলেজ লাইব্রেরি যেন এক জীবন্ত টাইম ক্যাপসুল। আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এই লাইব্রেরি টিকে আছে টানা ৭৫০ বছর ধরে, জ্ঞানের এক জীবন্ত সাক্ষী হয়ে।
১২৭৬ সালে ক্যান্টারবারির আর্চবিশপের এক নির্দেশের মাধ্যমে এই লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সে সময় কলেজের ফেলোদের বই দান বাধ্যতামূলক ছিল। তখন বই ছিল অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, কারণ ছাপাখানা না থাকায় প্রতিটি বই হাতে লিখে তৈরি করতে হতো। বইগুলো রাখা হতো একটি সিন্দুকে, যা খুলতে একসঙ্গে তিনজন চাবিধারীর উপস্থিতি দরকার ছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাইব্রেরির রূপ বদলাতে থাকে। ১৪শ শতকে বই রাখার জন্য আলাদা কক্ষ তৈরি হয় এবং প্রথমবারের মতো তাক ব্যবহার শুরু হয়। সেই সময় বইগুলো চেইন দিয়ে বাঁধা থাকত, যাতে চুরি না হয়। মজার বিষয় হলো, বইগুলো তাকেও রাখা হতো উল্টোভাবে-মলাট ভেতরে, আর শিরোনাম বাইরে।

আজও লাইব্রেরির সেই মধ্যযুগীয় কক্ষটি ব্যবহৃত হয়। কিছু বই এখনও প্রতীকীভাবে চেইনে বাঁধা রাখা আছে। এখানে একসময় পড়াশোনা করেছেন বিখ্যাত লেখক জে আর আর টলকিনসহ বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব।
ভিক্টোরিয়ান যুগে এই লাইব্রেরির খ্যাতি বাড়তে শুরু করে। তখন একে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে প্রাচীন লাইব্রেরি বলা হতো, এমনকি কেউ কেউ একে বিশ্বের প্রাচীনতম বলেও দাবি করেন। যদিও আধুনিক গবেষকরা এই দাবির ব্যাপারে সতর্ক। তাদের মতে, “লাইব্রেরি” বলতে ঠিক কী বোঝায়, তার ওপরই নির্ভর করে এই প্রশ্নের উত্তর।
বিশ্বজুড়ে আরও প্রাচীন লাইব্রেরির দাবিদার রয়েছে, যেমন মিশরের সেন্ট ক্যাথরিনস মনাস্ট্রি বা মরক্কোর আল-কারাওইয়িন। তাই “সবচেয়ে পুরোনো” তকমার চেয়ে “অবিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত” হওয়াটাই মের্টনের বিশেষত্ব।
বর্তমানে লাইব্রেরির প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ডিজিটাল করার কাজ চলছে, যাতে সারা বিশ্বের মানুষ এগুলো ব্যবহার করতে পারে। তবে লাইব্রেরির কর্তৃপক্ষ মনে করেন, প্রযুক্তি যতই এগোক, তবুও মানুষ সরাসরি এই ঐতিহাসিক স্থানটি দেখতে আগ্রহ হারাবে না।
৭৫০ বছর ধরে টিকে থাকা এই লাইব্রেরি প্রমাণ করে, জ্ঞান আর বইয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে স্থায়ী সম্পদ। সূত্র: বিবিসি
