ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে
ছবি- সংগৃহীত
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৫৯
ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের ঘটনা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কমিশনারদের অভিযোগ, কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেন। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে পাওয়া ১৪ পৃষ্ঠার সরকারি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাইয়ের শেষ দিকে। ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার ভানু প্রকাশ ইয়েতুরু ছুটিতে যাওয়ায় ২৮ জুলাই একটি দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়। এতে সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মনীষ গর্গকে ২৭ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আদেশ জারির দিনই হিমাচল প্রদেশ ক্যাডারের ১৯৯৬ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা মনীষ গর্গ নিজের কাজের দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ ও সমমর্যাদার সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার, ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার এবং মহাপরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্বও পুনর্বণ্টন করে নতুন নির্দেশনা জারি করেন।
এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ২৯ জুলাই পৃথক দুটি চিঠি লেখেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি ভি সোমনাথনের কাছে অভিযোগ জানান।
চিঠিতে দুই কমিশনার বলেন, কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পূর্বানুমোদন ছাড়াই একতরফাভাবে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। সান্ধুর দাবি, এ পদক্ষেপ ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনার্স অ্যাক্ট, ২০২৩’-এর ১৮(১) ও ১৮(২) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। জোশীও অভিযোগ করেন, এ সিদ্ধান্ত ওই আইনের নীতি ও নির্দেশনার পরিপন্থী।
জোশী চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, নতুন নির্দেশনা জারির পর তিনি প্রশাসনিক বিভাগের কাছে সংশ্লিষ্ট নথি দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে ফাইলটি দেখানো হয়নি।
দুই কমিশনারের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ৫ আগস্ট জবাব দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি ভি সোমনাথন। তিনি চিঠির অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যক্তিগত প্রধান সচিব (পিপিএস), কর্মী ও প্রশিক্ষণ দপ্তরের সচিব এবং এস্টাবলিশমেন্ট অফিসারের দপ্তরে পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নথিতে বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানে বলা হয়, এ বিষয়ে সরাসরি সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চিঠি দুটি নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়, বরং কমিশনারদের ব্যক্তিগত ক্ষমতাবলে পাঠানো হয়েছিল।
তবে অভ্যন্তরীণ নোটে সুপারিশ করা হয়, মনীষ গর্গের বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে কাজে লাগানোর জন্য অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে রাখা হোক।
ঘটনার বিস্তারিত ও এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য জানতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আরটিআই আবেদন করেন অবসরপ্রাপ্ত কমোডর লোকেশ কে বাত্রা। তার পাওয়া সরকারি নথি থেকে দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে অভিযোগের পর কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নথি থেকে স্পষ্ট হয়নি।
- বিষয় :
- ভারত
- নির্বাচন কমিশন