ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মেনে নিতে পারছে না সিন্ডিকেট

বিটিসিএল টেন্ডার পেল না জেডটিই

বিটিসিএল টেন্ডার পেল না জেডটিই
×

.

বিশেষ প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১০:৩৭ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৮:৪৭

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিটিসিএল কর্তৃক কয়েক বছর ধরে গৃহীত সব প্রকল্প ও কার্যাদেশ ঘিরে অবৈধ ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যাদের অপতৎপরতায় বিগত কয়েক বছরে বিটিসিএল দপ্তরের সব কার্যাদেশ রহস্যজনকভাবে পেয়ে যাচ্ছিল ‘জেডটিই’ ও দেশি এক প্রতিষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে এসটিএনপি প্রকল্পের আওতায় ডিডব্লিউডিএমের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী আগে বাণিজ্যিক দরপত্র খোলা হলে দেখা যায় সেই দেশি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি মূল্য প্রস্তাব করেছে। কাজ পেতে অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান কম মূল্য প্রস্তাব করেছিল, তাদের সবাইকে নন-রেসপনসিভ হিসেবে চিহ্নিত করে নিজের পণ্য বেশি দামে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিশেষে বাজারমূল্যের থেকে বহু গুণ বেশি দামে পণ্য কেনার বিষয়টি উল্লিখিত সিন্ডিকেটের বাইরের কিছু মানুষ সামনে নিয়ে আসে। বিটিসিএল তখন অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রের জন্য নির্বাচিত করতে পারেনি। বিষয়টি মেনে না নিতে পেরে ওই প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা করে। কিন্তু পরে বিটিসিএল ওই দরপত্র নিয়ে আর এগোতে পারেনি।

ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ধারাবাহিকতায় বিটিসিএল সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সর্বাধুনিক টেলিযোগাযোগ ও আধুনিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ২০৩০ সাল অবধি ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ফাইভজি নেটওয়ার্কের জন্য উচ্চ ক্যাপাসিটির সংস্থানসহ উপযোগীকরণে বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি গ্রহণ করে। দরপত্রে জেডটিই বেশি মূল্য প্রস্তাব করার কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই বাতিল হয়। অন্যদিকে কোনো বিশেষ আগ্রহী মহল উল্লিখিত দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তাই হুট করেই সিন্ডিকেট ফাইভজি রেডিনেস দরপত্রকে বাতিল করতে কারসাজি শুরু করেছে।

অনুসন্ধান বলছে, প্রকল্পটি ২০২১ সালের এপ্রিলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃক ২৮ দশমিক ৭৫ লাখ টাকা খরচ করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করা হয়।

বুয়েট কর্তৃক সমীক্ষার আলোকে (আইটিইউ) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণপূর্বক প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নির্দেশে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করলে কমিশন এবং সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। সভায় সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের মহাসড়কে উঠবে। সার্বিক বিবেচনায় তিনি প্রকল্পটি অনুমোদনের অনুরোধ জানান। ফলে ওই দিনের একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি অনুমোদন করেন। একনেকে অনুমোদনের পর মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের অভিপ্রায় অনুযায়ী ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল বিটিসিএল কর্তৃক কারিগরি বিনির্দেশ প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।

অধিকতর  স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রি-বিড সভা আহ্বান করা হয়। সেখানে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী কেউ এ বিনির্দেশের (Specification) বিষয়ে কোনো আপত্তি বা অনুযোগ উত্থাপন করেননি। তা ছাড়া ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর বিভিন্ন বিডার ও স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বিওডি, বিটিসিএল সভায় কোনো দরপত্রদাতা বা প্রযুক্তির বিষয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপন করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, পিপিআর-২০০৮-এর বিধি (৭)-এর আওতায় গঠিত ৩ (তিন) সদস্যের দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির মাধ্যমে ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়। দরপত্র পদ্ধতি এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি হওয়ায় দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি কর্তৃক শুধু কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে মোট তিনটি দরদাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দরপত্র দাখিল করা হয়। তারা হলো নকিয়া, হুয়াওয়ে ও জেডটিই করপোরেশন। পিপিআর-২০০৮-এর বিধি (৮)-এর আওতায় বিনির্দেশের ২০২২ সালের ২৯ জুন বিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে এ প্রকল্পের প্যাকেজ জিডি-১-এর জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি মূল্যায়ন কমিটি বুয়েট, পুলিশ টেলিকম ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ গঠিত হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি টেকনিক্যালে অংশগ্রহণকারী ৩টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান টেকনিক্যালি রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচিত করে। পরে জেডটিই ছাড়া হুয়াওয়ে ও নকিয়া দুটি কোম্পানি টেকনিক্যালি রেসপনসিভ হওয়ার বিষয়টি প্রথমবার অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সুনির্দিষ্ট কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া দেশের প্রচলিত প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সব আইনের ব্যত্যয় করে ফাইভজি রেডিনেস দরপত্রটি বাতিল করার অপচেষ্টা হয় বলে জানা গেছে।

TEC থেকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল টিইসির কাছে তিনটি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পত্র প্রেরণ করে। টিইসি থেকে ব্যাখ্যা প্রাপ্তির পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিটিসিএল ২০২৩ সালের ১৮ মে প্রেরিত ব্যাখ্যার বিপরীতে প্রাপ্ত উত্তর সন্তোষজনক নয় উল্লেখপূর্বক কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদন করা গেল না মর্মে পুনঃদরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত প্রদান করে। কিছুটা অনিয়মের প্রশ্ন ওঠে। কেননা আলোচ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিপিপি অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৬৩.৯৬ কোটি টাকা। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ অনুযায়ী HOPE-এর ক্ষেত্রে অনুমোদনের সীমা ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত।

সুতরাং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন’ ২০০৬-এর ধারা (৮) এবং পিপিআর-২০০৮-এর বিধি (১১) অনুযায়ী অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (এ ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ) শুধু দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুমোদন বা কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক বাতিল করে পুনঃমূল্যায়ন বা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের নির্দেশ দিতে পারেন। ২০২৩ সালের ১৫ জুন দরদাতা M/s Huawei Technologies Ltd & Huawei Technologies BD Ltd কর্তৃক পিপিআর-২০০৮-এর বিধি ৫৭(২) অনুযায়ী দরপত্র প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের কাছে অভিযোগ দাখিল করে।

পরে বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দৃষ্টিগোচর হলে বিভাগ থেকে ২০২৩ সালের ২০ জুন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের মতামত না পাওয়া অবধি এবং পরিচালনা পর্ষদের ক্রয় সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত দরপত্র প্রক্রিয়াকরণের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা বিটিসিএলকে দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব পবিত্র হজ পালনের জন্য মক্কায় অবস্থানের সময়ে ডেস্ক কর্মকর্তাকে কার্যবিবরণী সংশোধন করে দরপত্র পুনঃআহ্বানের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

বিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদের কাছে টেন্ডার বাতিল করায় বিধি ও প্রক্রিয়াগত সুস্পষ্ট বিচ্যুতি ঘটেছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। ফলে পিপিএ-২০০৬ এবং পিপিআর-২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের আলোকে ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে বিদ্যমান সব বিধিবিধান স্পষ্টভাবে পরিপালনপূর্বক দরপত্র প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন মর্মে পর্ষদ হতে পুনরায় HOPE-কে পরামর্শ দেওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে বিধিবহির্ভূতভাবে দরপত্রে অংশ নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বাতিল করা হয়।

উল্লিখিত আদেশের বিরুদ্ধে M/s Huawei কর্তৃক পিপিআর-২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী CPTU-এর রিভিউ প্যানেল-২-এ অভিযোগ করলে রিভিউ প্যানেল ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর উভয় পক্ষের শুনানিপূর্বক ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর দু’তরফা শুনানি শেষে বাদীর আপিল পূর্ণাঙ্গভাবে মঞ্জুর করত প্রকল্প কার্যালয়ের প্রধান (HOPE) প্রদত্ত ২৭-০৮-২০২৩ তারিখের তর্কিত ‘Letter of Rejection (BTCL No 14.33.0000.001.07.002.23/1)’ অকার্যকর ঘোষণা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল অফারসমূহ রেসপনসিভ ঘোষণার সঙ্গে গ্রহণযোগ্য দরপত্রদাতাদের ফাইন্যান্সিয়াল অফার উন্মুক্ত করার জন্য বিটিসিএলের বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে এবং প্রকল্পের ক্রয়কারী কার্যালয়ের বিরুদ্ধে পিপিএ-২০০৬-এর ধারা ৬৪(৩)(৪) অনুসরণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও বিটিসিএল বোর্ড কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সিপিটিইইর রিভিউ প্যানেলের আদেশ ও বিওডির নির্দেশনার আলোকে TEC-কর্তৃক দাখিলকৃত কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর HOPE কর্তৃক অনুমোদন ও আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে বিটিসিএল থেকে তার মূল প্রতিষ্ঠান টেলিকম অধিদপ্তরে বদলি করা হয়।

রিভিউ প্যানেল এবং বোর্ডের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট দরদাতাদের ফাইন্যান্সিয়াল অফার উন্মুক্তকরণের (Opening Date: ২৬-১০-২০২৩) নোটিশ জারি করা হলে বিটিসিএল পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ায় এবং সিপিটিউর রিভিউ প্যানেলের রায়ের সুপারিশ অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ও দুদক কর্তৃক অনুসন্ধানের ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ হয়ে সেলিম আশ্রাফের মতো রিট পিটিশন দায়ের করে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর অফিস আদেশ এবং সিপিটিইউর রিভিউ প্যানেলের রায় স্থগিত করেন। ফলে ফাইভজি প্যাকেজের ফাইন্যান্সিয়াল অফার উন্মুক্তকরণ স্থগিত হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান চৌধুরী বিটিসিএল দপ্তরের স্থায়ী কর্মকর্তা ছিলেন না। তিনি মূলত ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের একজন স্থায়ী কর্মকর্তা; যাকে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। যেখানে দায়িত্ব পালনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাঁকে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক আদেশে তাঁর স্থায়ী কর্মস্থল ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে বদলি করার পরও তিনি বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অতিরিক্ত দায়িত্বের পদ ফিরে পেতে আদালতে রিট করেন।

পরিশেষে, চেম্বার জজ আদালতের নির্দেশনামতে ৮ নভেম্বর ৩ জন দরদাতার আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হুয়াওয়ে থেকে জেডটিই প্রতিষ্ঠানের দর ব্যবধান ছিল ৮৯ কোটি টাকা। হুয়াওয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ায় অবশেষে ১৯ নভেম্বর বিটিসিএল ও হুয়াওয়ের মধ্যে কারিগরি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ফলে ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্পে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। 

প্রকল্প পরিচালক মনজির আহমেদ ফাইভজি প্রকল্প প্রসঙ্গে জানান, প্রকল্পের স্পেসিফিকেশনে যে প্রযুক্তি ধরা হয়, তা বিশ্বে প্রচলিত সর্বশেষ প্রযুক্তি। সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) যে গ্রাউন্ডে দরপত্র বাতিল করেন, তা সম্পূর্ণভাবে (পিপিআর ২০০৮) এবং ফাইন্যান্সিয়াল রুলস পরিপন্থি। যদি এই বাতিল আদেশ পালন করা হতো, তবে সরকার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে বিলম্বিত হওয়ার সঙ্গে সরকারের বাড়তি খরচ হতো ১৩৭ কোটি টাকা।

অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক বিটিসিএল বর্তমান এমডি (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আনোয়ারের কাছে ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্পের জটিলতার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রকল্পের সমীক্ষা, ডিপিপি তৈরি, একনেক কর্তৃক তা অনুমোদন, স্পেসিফিকেশন তৈরি এবং টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন শেষে হঠাৎ করে পুরাতন প্রযুক্তির কথা বলে টেন্ডারটি বাতিল করার বিষয়টির কোনো যৌক্তিকতা নেই। তথাপিও বোর্ড সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করি। যেখানে বুয়েটের উপাচার্য (বিটিসিএল বোর্ডের সদস্য) বলেন, ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্পের স্পেসিফিকেশনে যে প্রযুক্তি ধরা হয়েছে (আইটিইউ), স্ট্যান্ডার্ডে এটাই লেটেস্ট। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক বিচারে ফাইভজি প্রকল্পের প্রযুক্তির সমকক্ষ কোনো প্রযুক্তি বিশ্বে এ মুহূর্তে নেই। সুতরাং পুরাতন প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করার কোনো অবকাশ নেই। 
 

আরও পড়ুন

×